আবারো ক্ষমতায় ফিরছে তালেবান

আবারো ক্ষমতায় ফিরছে তালেবান

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ

রাজধানী কাবুলসহ বেশির ভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আবারো ক্ষমতায় ফিরছে তালেবান।

নতুন অস্ত্র আর পশ্চিমাদের সাজানো আফগান বাহিনী একরকম কোনও প্রতিরোধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছে তালেবানের হাতে। দুই দশক পর দৃশ্যপটে সংগঠনটি ফিরে এসেছে পূর্ণ শক্তি নিয়ে।

১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনাদের পিছু হটার পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর পাকিস্তানে তালেবান আন্দোলনের জন্ম। পশতু ভাষায় তালেবান মানে-ছাত্র। আন্দোলনেও ছিল পশতুনদেরই প্রাধান্য। ধারণা করা হয় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মোল্লাহ ওমর।

দেশটিতে সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় পাকিস্তানের মাদ্রাসাগুলোতে প্রথম সংগঠিত হয় তারা। মাদ্রাসাগুলো পরিচালিত হতো সৌদি অর্থে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তের দু’দিকের বিস্তীর্ণ পশতুন অধ্যুষিত অঞ্চলে দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে উঠে তালেবান। সেসময় ক্ষমতায় গেলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও কঠোর শরিয়াহ শাসন জারি করার কথা জানায় তারা।

১৯৯৫ সালে আফগান প্রদেশ হেরাত ও এক বছর পর দখল করে রাজধানী কাবুল। প্রেসিডেন্ট বুরহানউদ্দীন রাব্বানির সরকারকে সরিয়ে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করে। ক্ষমতায় থাকা সরকারের প্রতি অনাস্থার কারণে তালেবানের উত্থানকে তখন স্বাগত জানায় দেশটির সাধারণ মানুষ। তবে টেলিভিশন, সংগীত, সিনেমা নিষিদ্ধ করাসহ দশ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে না যাওয়ার নিয়ম জারি করে তারা। ধীরে ধীরে তাদের বিরুদ্ধে উঠতে থাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল কায়েদার হামলার পর সারা বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রে আসে তালেবান। হামলার প্রধান সন্দেহভাজন ওসামা বিন লাদেন এবং আল কায়েদাকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে।

লাদেনকে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানোর পরই অক্টোবরে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। বিধ্বংসী এক সামরিক অভিযানে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গত ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। তবে, গেল জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে রাতের অন্ধকারে মার্কিন সৈন্যদের শেষ দলটি কাবুলের নিকটবর্তী বাগরাম বিমানঘাঁটি ছাড়ার মাত্র ৬ সপ্তাহের মধ্যেই কাবুলসহ দেশটির অধিকাংশ ভূখণ্ডের দখল এখন তালেবানের হাতে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :