আল্লাহকে ভয় করার উপকারিতা

আল্লাহকে ভয় করার উপকারিতা

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বমানবতার জন্য মহান শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম সব বিষয়ই তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন। একবার তারাঁ বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিকে?

এমন প্রশ্নে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহকে বেশি বেশি ভয় করা। এ সম্পর্কে তিনি সাহাবায়ে কেরমামের উদ্দেশ্যে একটি হাদিস বর্ণনা করেন। যা তুলে ধরা হলো-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল!(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, ‘সবচেয়ে সম্মানিত ওই ব্যক্তি যে, আল্লাহ তাআলাকে বেশি ভয় করে।

সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আমরা আপনাকে এ কথা জিজ্ঞাসা করছি না।

তখন তিনি বললেন, আল্লাহর নবি ইউসুফ, তাঁর পিতা আল্লাহর নবি, তাঁর পিতা আল্লাহর নবি এবং তাঁর পিতা ইবরাহিম খলিলুল্লাহ।

সাহাবায়ে কেরাম আবার বললেন, ‘আমরা আপনাকে এ বিষয়েও জিজ্ঞাসা করছি না।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তাহলে কি তোমরা আরবের বিভিন্ন গোত্রের কথা জিজ্ঞাসা করছো?

জেনে রাখ! জাহিলিয়াতের (অন্ধকার) যুগে তাদের মধ্যে যারা ভালো ছিল, তাঁরা ইসলামের যুগেও ভালো, যদি তারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানবান হয়ে থাকে। (বুখারি ও মুসলিম) যারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কোনো ধরনের অন্যায়-অনাচার, অত্যাচার-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল না; কিন্তু সমাজের ভালো ও ন্যায়পরায়ণ নেতা ছিল।

পরবর্তী ইসলামের দাওয়াত পেয়ে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ঈমান গ্রহণ করেছে। সব বিষয়ে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করেছে। তাঁরা ঈমান গ্রহণের ফলে এবং আল্লাহর ভয়ের কারণে ইসলামের যুগেও অত্যাধিক সম্মানিত ব্যক্তি।

পরিশেষে…
ইসলাম হচ্ছে পরশ পাথর। যারাই একবার ইসলামের সুশীতল ছায়া তলে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাঁরাই সোনায় পরিণত হয়ে যায়। তাঁদের অন্তরে আল্লাহর ভয় জন্ম লাভ করে। তাঁরা শুধু আল্লাহর কাছেই সম্মানিত নয়; বরং দুনিয়াতেও তারা সম্মানিত।

হাদিসের আলোকে তাকওয়ার অধিকারী ব্যক্তিরাই সবচেয়ে সম্মানিত। কারণ জাহিলিয়াতের বড় বড় নেতারা আল্লাহর ভয়েই ইসলাম গ্রহণ করে যার ফলে তারা ইসলাম গ্রহণের পরেও মর্যাদাবান হয়ে যান।

সুতরাং হাদিসের আলোকে বুঝা যায় যে, আল্লাহর ভয় শুধুমাত্র পরকালের মুক্তি একমাত্র উপায়ই নয় বরং দুনিয়াতে সম্মান ও ইজ্জত লাভের একমাত্র উপায়ই হচ্ছে তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় অর্জন করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাকওয়াবান অর্থাৎ দুনিয়ার সব কথা ও কাজে আল্লাহকে ভয় করার তাওফিক দান করুন। আমিন

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :