আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী, নিখোঁজ তরুণী উদ্ধার

আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী, নিখোঁজ তরুণী উদ্ধার

জাতীয়

অনলাইন ডেক্সঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আলাইয়ারপুরে হীরাপুর গ্রামে অস্ত্রের মুখে এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের পর ভাইরালের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং অপহরণ ও পর্ণোগ্রাফির মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির মধ্যে ফয়সাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এ ঘটনায় অন্য আসামী সাইফুল ইসলাম ইমনকে দুটি মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

শনিবার বিকেলে নোয়াখালী চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেটের আদালতের বিচারক এসএম মোসলেহ উদ্দিন মিজানের আদালতে আসামী সাইফুল ইসলাম ইমনের ৫দিন করে দুটি মামলায় ১০দিন করে রিমান্ড চাইলে আদালত ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং একই আদালতে ফয়সাল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

এদিকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার দুই মাস পর ভিকটিমকে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থেকে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ।

এর আগে এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একই এলাকার রাসেল মো. ফয়সাল(২২),  জোবায়ের (২৩), সামছুল আলম রাসেল(২৬) ও সাইফুল ইসলাম ইমন (২২) নামের ৪ যুবকসহ আরও অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্ণোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা। বৃহস্পতিবার রাতেই বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও সাইফুল ইসলাম ইমনকে গ্রেপ্তার করে।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার জানান, পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওই তরুণীকে আজ সন্ধ্যায় সাভারের আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০১৮ সালের ১৩মার্চ রাতে মামলার আসামী ফয়সাল ও জোবায়ের ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওইছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ও পরে অন্য এক ব্যক্তির সাথে তার ভিডিও ধারণ করে। ঘরে থেকে যাওয়ার সময় তারা আলমেরি থেকে নগদ ৫০হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন ও দুইটি আংটি নিয়ে যায়।

গত ২০২০সালের ৫মার্চ রাত আড়াইটার দিকে ইমন ও রাসেল ঘরে ঢুকে নির্যাতিতাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার তিন মাস পর রাসেলকে ৫০হাজার টাকা দিয়ে ঢাকার মিরপুর-২, ৭নং রোডের ৩নং গলির জান্নাত নামের এক নারীর কাছ থেকে মেয়েকে নিয়ে আসেন তার মা। ওই তিন মাসে অপহৃতাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রাসেল।

এরপর বিভিন্ন সময় ইমন বাড়ীতে এসে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওইছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সবশেষ গত বছরের ২৪ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে আবারও অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে ৪জনকে আসামী করে বেগমগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামী ফয়সাল ও ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :