ইইউ’র সঙ্গে সংঘাতের পথে যুক্তরাজ্য

ইইউ’র সঙ্গে সংঘাতের পথে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ

ইউক্রেন সংকটের মধ্যে আবারও চাপের মুখে পশ্চিমা ঐক্য। এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ইইউ ত্যাগের জন্য ব্রেক্সিট চুক্তির বোঝাপড়াকে এতদিন বিশাল সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করলেও এখন তার কিছু ধারা একপাক্ষিকভাবে বদলে দিতে চাইছে বরিস জনসনের সরকার। দেশটির এমন সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইইউ। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে।

সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রোটোকলের অংশবিশেষ পরিবর্তন করতে ব্রাসেলসের ওপর চাপে কাজ না হওয়ায় একতরফাভাবে কিছু নিয়ম বদলানোর জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আইনি খসড়া পেশ করেছে যুক্তরাজ্য। সেইসঙ্গে বিরোধ মেটাতে ইইউ আদালতের এখতিয়ারও চ্যালেঞ্জ করছে জনসন প্রশাসন।

যুক্তরাজ্যের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে ইইউ। ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারশ শেফচোভিচ বলেছেন, লন্ডনের এমন উদ্যোগে যোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখাবে ব্রাসেলস। উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

ব্রেক্সিট চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে ইইউ। ব্রিটিশ পণ্য আমদানির ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক বসানো থেকে গোটা ব্রেক্সিট চুক্তিই স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ব্রাসেলস।

ইইউ-যুক্তরাজ্যের মধ্যে পূর্ণমাত্রার বাণিজ্যিক সংঘাতের শঙ্কায় দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে এসেছে শিল্প ও বাণিজ্য জগতে। যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের হুমকি দেখতে চায় না ওয়াশিংটন। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ব্রিটিশ প্রশাসনের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, দেশটি বিনা কারণে চুক্তি ভঙ্গ করার পথে হাঁটছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইইউ’র সঙ্গে আলোচনা করতে চান। তবে ব্রাসেলসকেও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কঠিন সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার সদিচ্ছা দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, ইইউ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন উত্তর আয়ারল্যান্ড সংক্রান্ত সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চলেছেন। সেখানে আঞ্চলিক নির্বাচনের পর ‘গুড ফ্রাইডে’ চুক্তি অনুযায়ী সব পক্ষকে নিয়ে সরকার গঠনে চলমান অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সরব হয়েছেন তিনি। উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তির স্বার্থেই আন্তর্জাতিক চুক্তির মধ্যে ‘সামান্য রদবদল’ প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন জনসন।

ব্রেক্সিট চুক্তি অনুযায়ী উত্তর আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে শুল্কসীমা নির্ধারণ করা রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ইইউ সদস্য আইরিশ প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত পুরোপুরি উন্মুক্ত। জনসন সরকারের বিতর্কিত আইন কার্যকর হলে সেই সমঝোতা মুখ থুবড়ে পড়বে। যুক্তরাজ্য থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে পণ্য পরিবহন সহজ করতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ সৃষ্টি, কর সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এবং ইইউ আদালতের এখতিয়ার শেষ করতে চান বরিস জনসন।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :