ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘সিরাজগঞ্জ শপ’, ‘আলাদীনের প্রদীপ’ এর উদ্যোক্তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘সিরাজগঞ্জ শপ’, ‘আলাদীনের প্রদীপ’ এর উদ্যোক্তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে

অর্থনীতি

স্টাফ রিপোর্টারঃ

 দেশের সমালোচিত ই-কমার্স ব্যবসায়ী প্লাটফর্ম ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জের মত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি চটকদার বিজ্ঞাপন ও বিশাল ছাড়ের অফারের ফাঁদে ফেলে সিরাজগঞ্জেও দুটি প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

হাজার হাজার গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ ভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জ শপ.কম ও আলাদিনের প্রদীপ’র বিরুদ্ধে। এ-দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ ও পণ্যের অর্ডার দিয়ে অগ্রিম অর্থ প্রদান করে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকগন।

অভিযোগ উঠেছে, ৪৭ কোটি টাকা তাদের গ্রাহকদের কাছে পাওনা রয়েছেন। গ্রাহকদের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধারেরা, তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটির অফিসও। নগদ’র মাধ্যমে অর্থ ফেরত দেবার কথা থাকলেও একাউন্ট বন্ধ থাকায় হতাশায় ভুগছেন বিনিয়োগকারিরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলি ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের জুয়েল রানা, স্বল্পশিক্ষিত এই তরুন জেলা প্রশাসনের লানিং এন্ড আনিং প্রজেক্টের প্রশিক্ষন গ্রহন শেষে নিজে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ৭১ টেলিভিশনের সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজকে পরিচালক করে গড়ে তোলেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জশপ.কম।

শহরের এম এ মতিন সড়ক ও কাঠেরপুল এলাকায় জাকজমকপুর্ন দুটি অফিস নিয়ে জনবল নিয়োগ দিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন ও বিশাল ছাড়ের অফারের মাধ্যমে শুরু করেন বিনিয়োগ ও অর্ডারের অগ্রিম অর্থ আদায়। অল্প সময়ে কোটিপতি বনে বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন দুজনেই।

একইভাবে জেলার তাড়াশ উপজেলার নিভৃতপল্লীর সন্তান ঢাবি শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন এবং মাহমুদ হাসানও গড়ে তোলেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলাদিনের প্রদীপ। দেশের অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জশপ.কম ও আলাদিনের প্রদীপ প্রায় সোয়া চার লক্ষ অর্ডারের বিপরীতে সংগ্রহ করে অগ্রীম ২০৫ কোটি টাকা।

বানিজ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত হওয়া দেশের ১৫টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা এই প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ি, পণ্য প্রদান ও টাকা রিফান্ড করার পরেও এখনো গ্রাহকদের নিকট বকেয়া রয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা।

বিপুল পরিমান অর্থ বকেয়া রেখে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্ণধারেরা আত্মগোপনে যাওয়া ও নগদ একাউন্ট বন্ধ থাকায় বিভ্রান্তি ও হতাশায় ভুগছেন বিনিয়োগকারিরা। আত্মগোপনে যাওয়ার আগে চার যুবক গ্রাহকদের নানা আশ্বাস দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ শহরের বাহিরগোলা ও এমএ মতিন সড়কে সিরাজগঞ্জ শপ ডটকমের প্রধান ও আঞ্চলিক অফিস দুটি দুই সপ্তাহ ধরে তালাবদ্ধ। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ আসবাবপত্র সরানো হয়েছে। রহসন্য জনকভাবে লাপাত্তা হয়েছে কোম্পানির ডেলিভারি গাড়িগুলোও।

তাদের বিরুদ্ধে গ্রহকদের অভিযোগ, পন্যের বিপরীতে সিরাজগঞ্জ শপ ডট কমের কাছে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা তাদের পাওনা। তবে এই টাকার এখন উপায় হবে কি? এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় তারা। দাবী উঠেছে প্রতারনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে পাওনা অর্থ উদ্ধার ও শাস্তির।

‘আলাদীনের প্রদীপডটকম’-এর সিইও মেহেদী হাসান মুন মোবাইলে ফোনে বলেন, নগদের ঝামেলার কারণে ঢাকায় আছি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান বলেন, এক লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের ৮৫ কোটি টাকার অর্ডারের বিপরীতে মাত্র ৫ কোটি টাকা বকেয়া আছে। নগদের ঝামেলা না থাকলে এসব বকেয়াও থাকত না।

সিরাজগঞ্জশপডটকম’র এমডি আকরাম হোসেন ও সিইও জুয়েল রানাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামে গেলে জুয়েল রানার বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, জুয়েল এরই মধ্যে গ্রাহকের ১২৫ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে শুনেছি। ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না করলে বাকি ৮-১০ কোটি টাকাও হয়তো ফেরত দিতো। গ্রাহক ভোগান্তির জন্য ই-কমার্স’র নীতিমালা ও নগদ’র একাউন্ট বন্ধ করে দেয়াকে দুষলেন দুজনেই।

এদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনা ও নজরদারির পাশাপাশি ভুক্তভোগি গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করবে সরকার এমনটিই প্রত্যাশা ভুক্তভোগি গ্রাহকদের।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :