কিছু বিষয় শিথিল রেখে কঠোর বিধিনিষিধের মেয়াদ বাড়তে পারে

কিছু বিষয় শিথিল রেখে কঠোর বিধিনিষিধের মেয়াদ বাড়তে পারে

জাতীয়

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধ রেখে কঠোর বিধিনিষেধ আরও দুই সপ্তাহ বাড়াতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  

এদিকে, শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে  হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। আর পরামর্শক কমিটি মনে করে, সংক্রমণের ঊর্ধমুখী অবস্থায় বিধিনিষেধে ঢিলেঢালা ভাব থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হতে পারে।

করোনা ভাইরাসের মহামারীর দেড় বছরে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পার করছে বাংলাদেশ। ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত আর মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে প্রায়ই।

এমন অবস্থায় ২৩শে জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় চলমান বিধিনিষেধ আরও দুই সপ্তাহ বাড়াতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এরই মধ্যে শিল্প মালিকরা কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানান। তা মেনে নিয়ে রবিবার থেকে রপ্তানিমুখী সব শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসে।

এ সিদ্ধান্তের পর বাড়তে থাকে ঢাকামুখী পোশাক শ্রমিকদের স্রোত। এতে করোনার সংক্রমণ বাড়বে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান,’খুললে সংক্রমণ বাড়বে। সংক্রমণ বাড়লে মৃত্যু বাড়বে এটিই আমাদের ধরে নিতে হবে। ব্যবসায়ীর এ সমস্ত কথা শুনতে চান না।’

তিনি জানান, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়াতে সুপারিশ করা হয়েছে। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, বাস্তবতা বিবেচনায় তিন-চারদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিবে সরকার।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন,’বিকল্প পথ যেগুলো আছে আমাদের সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। সব কিছু ওপেন করাটা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে যাচ্ছে না। এখানে পরিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

কোভিড উনিশ সংক্রান্ত সরকারের কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি বলছেন, বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে সংক্রমণ কমবে না। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন,’সরকার যদি লকডাউন না দিতে পারে, তবে কঠোর বিধিনিষেধ যেন আরোপ করা হয়। সেটার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই শিল্প কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণায় গণপরিবহণ চালু এবং বিপণিবিতান খুলে দেয়ার দাবি উঠেছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :