কিশোরীকে গনধর্ষণের ম্যাসেজ -পুলিশ যেভাবে দুই ধর্ষককে আটক করলো

কিশোরীকে গনধর্ষণের ম্যাসেজ -পুলিশ যেভাবে দুই ধর্ষককে আটক করলো

রাজশাহী

স্টাফ রির্পোটারঃ

গনধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর গোপন কান্না, একটি ম্যাসেজ এর সুত্র ধরেই পুলিশ যেভাবে মাত্র সপ্তাহের মধ্যেই ধর্ষীতা কিশোরীকে সনাক্ত পূর্বক  উদ্ধার পূর্বক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ধর্ষণে জড়ীত মূল ধর্ষক সহ দুই ধর্ষককে আটক করলো।

গত ৬ মে কিশোরীটিকে গনধর্ষনের ঘটনা ঘটলেও ভিকটিম ভঁয়ে তা প্রকাশ না করে অসুস্থ অবস্থায় দাদীর কাছে আশ্রয় নিয়ে নিরবে চাপা কান্না করলেও ঘটনার কয়েক দিন পর  একজন ব্যাক্তি গনধর্ষণের ঘটনাটি ম্যাসেজ দিয়ে পুলিশ কে জানানোর পরই ঘটনাটি অনুসন্ধানে দ্রুত মাঠে নামেন পুলিশ এবং মাত্র এক সপ্তাহের (১৩ মে) মধ্যেই প্রথমে ধর্ষীতা কিশোরীকে সনাক্ত পূর্বক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সহ গনধর্ষণে জড়ীত লালন ও রিপন নামে দুজন ধর্ষককে আটক করেন পুলিশ।

( বিস্তারিত হবুহু তুলেধরা হলো)

মা মারা গিয়েছেন ছোটোবেলায়। বাবা আবার বিয়ে করেছেন। সেখানে ঠাঁই হয়নি মেয়েটির। মা হারা ও বাবার স্নেহ বঞ্চিত মেয়েটির বয়স ষোল-সতের। থাকেন দাদির সাথে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। দাদিকে নিয়ে অনেক কষ্টে চলে সংসার। সিরাজগঞ্জে রায়পুর এক বান্ধবী থাকে। সে বলেছে, একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিবে।

চাকরির খোঁজে বেরিয়ে পড়ে মেয়েটি। করোনায় যাতায়াতের ভাল ব্যবস্থা নেই। ভেঙে ভেঙে তাই যেতে হচ্ছে তাকে। যাত্রাপথে টাঙ্গাইলের কালিহাতি পর্যন্ত আসতে তার সন্ধ্যা হয়। একাকী কি করবে, কোথায় যাবে ভেবে পাচ্ছিল না মেয়েটি। রেল স্টেশনে একা দাঁড়িয়ে থাকে।

খুঁজতে থাকে সিরাজগঞ্জ যাবার উপায় অথবা নিরাপদে রাতটা পার করার কোনো আশ্রয়।এ সময় স্টেশনের পাশে এক লেগুনা চালক এগিয়ে আসে তার দিকে। তাকে সিরাজগঞ্জ পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দেয়। পথিমধ্যে এই চালকের সাথে যোগ দেয় আরো কয়েকজন যুবক। তারা মেয়েটিকে নিয়ে হাতিয়া ও সল্লার মাঝামাঝি ছোট বটতলা গ্রামের দিকে চলে যায়।

সেখানে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি ধানক্ষেতে নিয়ে যায় টেনে হেঁচড়ে। বুনো পশুর মতো মেয়েটির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। তাকে দলবেধেঁ ধর্ষণ করে, রক্তাক্ত করে। ভোরের দিকে মেয়েটিকে তাড়িয়ে দেয় তারা। অসুস্থ শরীরে মেয়েটি চলে যায় কোথাও।এমনটাই মেয়েটির কাছ থেকে জেনেছেন পথিমধ্যে কোনো এক ভদ্রলোক। মেয়েটি ভয়ে কাঁপছিল। কারো কাছে সাহায্য চাওয়ারও মানসিকতা ছিল না তার। তার ধারনা, পশুগুলো আবারও তাকে খুঁজে বের করবে।

তার উপর নির্যাতন করবে। মেয়েটিকে দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করতে পারেননি ভদ্রলোক। ঘটনাটি মে মাসের ছয় তারিখের। বিষয়টি হয়তো ওখানেই শেষ হতো। জানতো না কেউ কোনোদিন। নিপড়নের যাতনা আর ভয় একাকী বয়ে বেড়াতো মেয়েটি। কিন্তু, কি মনে করে ভদ্রলোক পুলিশকে বার্তা পাঠালেন। লিখলেন, বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং পরিচালিত বাংলাদেশ পুলিশ অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজের ইনবক্সে। লিখলেন বারো মে, দুই হাজার একুশ-এ।

বার্তাটি ওসি কালিহাতি সওগাতুল আলমকে পাঠিয়ে দ্রুত তদন্ত করে মেয়েটি ও তার ধর্ষকদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয় মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং। ওসি কালিহাতির তৎপরতায় ইন্সপেক্টর তদন্ত রাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে, এসআই রাজু আহমেদ এবং এএসআই তৈয়ব আলীসহ পুলিশের একটি টিম এ বিষয়টি তদন্তে নামে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পায় তারা।

ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশেষ কোনো ক্লু না থাকায় প্রথমে বেগ পেতে হয়েছে পুলিশকে। কিন্তু, অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তারা অল্প সময়ের মধ্যেই মেয়েটিকে সনাক্ত করে। দাদির ঠিকানা খুঁঁ‌জে পায় পু‌লিশ। ‌সেখা‌নেই পাওয়া যায় তা‌কে। সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে করে তাকে কালিহাতি আনা হয়। তাকে অভয় দেয়া হয়। আশ্বাস দেয়া হয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার।মেয়েটির বর্ণনা ও দেয়া তথ্যমতে আসামীদের সনাক্ত করা হয়।

গতরাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামীসহ দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকিদেরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মামলা হয়েছে। মেয়েটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন। মেয়েটির একটি পুনর্বাসনের জন্য চেষ্টাও করছে পুলিশ।বরাব‌রের ম‌তো পুরো প্রক্রিয়ায় মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং পরামর্শক এবং সমন্বয়ক হিসেবে পাশে থেকেছে।[ গনধর্ষনে জড়ীত আসামীদের নাম পরিচয়ঃ ১। মো. লালন (২০), পিতা-খলিলুর রহমান ২। মো. রাসেল, পিতা-শাহ আলম, ৩। মো. সুমন, পিতা-আজিজ, ৪। মো. রিপন (২৪), পিতা-শাহ জামাল। আসামী সকলের গ্রাম সল্লা, থানা কালিহাতি, জেলা টাঙ্গাইল।]

তথ্যসুত্র নিশ্চিত করেন, মোঃ সো‌হেল রানা ,এআই‌জি (মি‌ডিয়া এন্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স) বাংলা‌দেশ পু‌লিশ।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :