কুরবানির পশুর যত্ন নেওয়া কেন জরুরি?

কুরবানির পশুর যত্ন নেওয়া কেন জরুরি?

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

কুরবানি শুধু আল্লাহর জন্য। নির্ধারিত দিন পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পালন করা হয় এ কুরবানি। কুরবানির সময় খুবই নিকটে। এরই মধ্যে পশুর বাজার জমতে শুরু করেছে; আবার অনেকে কুরবানির পশু কিনতেও শুরু করেছে। কেউ কেউ কুরবানির পশু আগেই কিনে নিয়েছেন। কুরবানির এসব পশুর যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি।

কুরবানির পশু আগে কিনে নেওয়া ভালো। কুরবানির পশুর যত্ন ও পরিচর্যায় কুরবানি দাতার সঙ্গে পশুর একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। পশুর প্রতি কুরবানি দাতার ভালোবাসা ও মায়া জন্ম নেয়। সুতরাং কুরবানির (পশু হাট বা বাড়ি থেকে) কেনা থেকে শুরু করে কুরবানি করার আগ পর্যন্ত নানা ধাপে কষ্ট না দিয়ে পশুর যত্ন ও পরিচর্যা নেওয়া আবশ্যক। কারণ এ পশু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে তারই নামে উৎসর্গ করা হবে।

কুরবানির পশুর যত যত্ন
কুরবানির পশুকে ভালো ও উত্তম খাবার- ভুষি, খৈল, গাছের পাতা, ঘাস ও খড় খাওয়ানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রস্তুত রাখা এবং খাওয়ানো। যাতে কোনো পশু ক্ষুধায় কষ্ট না পায়। পশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও ভালো জায়গা রাখা এবং পশুর গায়ে হাত বুলিয়ে আদর যত্ন করারও সাওয়াবের কাজ। কেননা এ পশুটিকে মহান আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা হবে।

পশুর প্রতি মায়া-মমতা ও যত্ন দেখানো ইসলামের সুমহান শিক্ষার অন্যতম। আর যে পশু মহান আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করার নিয়তে কেনা হয়েছে; তা অন্তর থেকে ভালোবাসায় মমত্ববোধ ইসলামের শিক্ষা। কুরবানির পশুর প্রতি আরও বেশি মমত্ববোধ থাকা জরুরি। এই পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা হবে। আল্লাহর সামনে নিজের প্রিয় জিনিস উৎসর্গ করাই উত্তম। কেননা আল্লাহ তায়ালা বান্দার অন্তরের অবস্থা দেখেন।

পশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে, শান্ত-শীতল পরিবেশে রাখতে হবে। স্যাঁতসেতে, অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা স্থানে না রাখা যাবে না। প্রতিদিন পশুর মলমূত্র ও উচ্ছিষ্ট খাবার পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা। পরিবেশ যেন দূষিত না হয়।

কুরবানির দিন পশুর প্রতি করণীয়
কুরবানির দিন ঈদের জামাআতে যাওয়ার আগে সকাল-সকাল পশুকে গোসল করানো উচিত। যাতে পশুর শরীরে লেগে থাকা ময়লা-গোবর ইত্যাদি পরিষ্কার হয়ে যায়।

পশুর কুরবানির সময় করণীয়
আল্লাহর নামে জবাই করার জন্য পশু শোয়ানোর সময় খুব বেশি ধস্তাধস্তি করা ঠিক নয়। কৌশলে যত্নের সঙ্গে পশুকে শুইয়ে দেওয়া উত্তম। শোয়ানোর পর দেরি না করে দ্রুত জবাই করাও উত্তম।

পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও বিশেষ যত্ন জরুরি। পশু যাতে বেশি কষ্ট না পায় সে জন্য ধারালো ছুরি দ্বারা পশু জবাই করা। জবাইয়ের আগেই ছুরি ভালোভাবে ধার/শান দিয়ে নেওয়া উত্তম।

কুরবানির পশু জবাইয়ের সময় যতটা সম্ভব পশুর প্রতি সহমর্মী থাকা ও সহজে জবাই করার চেষ্টা করা। এক পশুর সামনে অন্য পশুকে জবাই না করা। এতে জীবিত পশুর মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় সৃষ্টি হয়। এতে পশু কষ্ট পায়।

জবাই করার সময় কুরবানির পশুর দেহ থেকে মাথা যেন বিচ্ছিন্ন না হয়। কারণ এটি মাকরূহ। আর এতে পশুকে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া হয়।

মনে রাখা জরুরি
অনেকেই পশু জবাইয়ের পর পর ই চামড়া খসানো কিংবা পায়ের রগ কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এটি মোটেও ঠিক নয় বরং জবাইয়ের পর পশু পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে পড়লে কিংবা মৃত্যু নিশ্চিত হলেই কেবল পশুর চামড়া খসানো। তাড়াহুড়ো করে চামড়া খসানো মারাত্মক নিষ্ঠুরতা। যা কোনোভাবেই উচিত নয়।

সর্বোপরি কুরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই পর্যন্ত কোনোভাবেই এ পশুকে কষ্ট না দেওয়া। পশুর প্রতি সদয় ও দয়াবান হওয়া ঈমানের একান্ত দাবি। এ কথাটি মনে রাখা যে- এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামে কুরবানি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :