কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বিশ্বনবির দিকনির্দেশনা-রাজশাহী টাইমস

কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বিশ্বনবির দিকনির্দেশনা-রাজশাহী টাইমস

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মহান আল্লাহর নির্দেশ। তিনি বান্দাকে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অকৃতজ্ঞ হতেও নিষেধ করেছেন। আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন? কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ইসলাম কী বলে?

বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। শ্রেষ্ঠ নবির উম্মত হিসেবে সবসময় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা আমাদেরও একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
‘আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দান করেছি এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো কেবল নিজ কল্যানের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, (তার স্মরণ রাখা উচিত) আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।’ (সুরা লোকমান : আয়াত ১২)

আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশের ওপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ জীবনে পরিপূর্ণ আমল করেছেন এবং তার উম্মতকেও নির্দেশ দিয়েছেন তারাও যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞ হয় না।’ (তিরমিজি)

কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকনির্দেশনা
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে উঠে নামাজ পড়তেন এমনকি তার (রাসুলুল্লা হসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) পা ফুলে ফেঁটে যাওয়ার উপক্রম হতো। একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমীপে নিবেদন করি-
‘হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কেন এতো কষ্ট করেন? আল্লাহ তাআলা তো আপনার আগের পরের সব দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং দুর্বলতা থেকে মুক্ত রাখার দায়িত্বও স্বয়ং আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করেছন!
উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমি কি আমার প্রভুর অনুগ্রহ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী জন্য বান্দা হবো না?’ (বুখারি)

আসমানি অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতার এই প্রেরণা, আল্লাহ তাআলার সমীপে দোয়া করা এবং তার প্রশংসায় রত থাকা শুধু সমষ্টিগতভাবে আমাদের প্রতি যে রহমত ও করুনা বর্ষিত হয় তার জন্য নয় বরং আল্লাহর ব্যবহার হলো তিনি প্রত্যেকের ব্যক্তি জীবনে এবং পারিবারিক জীবনেও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের কারণে প্রত্যেক মুমিনের প্রতিও স্বীয় করুণা ও রহমত বর্ষণ করেন এবং তাকে স্বীয় অনুগ্রহের উত্তরাধিকারী করেন।

তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত, নিজের মঙ্গল ও উন্নতির জন্য এবং নিজ পরিবারের কল্যাণ ও পরবর্তী প্রজন্মের মঙ্গল ও কল্যাণার্থে এই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের এ ধারা অব্যাহত রাখা।

কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে করণীয়
– হজরত আব্দুল্লাহ বিন গান্নাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে একথা বলে যে-
‘হে আল্লাহ! আমি সব কল্যাণ তোমার পক্ষ থেকেই লাভ করেছি। তোমার কোনো অংশীদার নেই। সব প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা তোমারই জন্য (এভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে); যেন সে সারাদিনের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের দায়িত্ব পালন করল । আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এ দোয়া করে সেও তার রাতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনও সম্পন্ন করল।’ (আবু দাউদ)

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে এই দোয়া শিখেছি-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي أُعْظِمُ شُكْرَكَ، وَأُكْثِرُ ذِكْرَكَ، وَأَتْبَعُ نَصِيحَتَكَ، وَأَحْفَظُ وَصِيَّتَكَ».
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাজ্য়ালনি উয়াজজিমু শুকরাকা ওয়া উকছিরু জিকরাকা ওয়া আত্তাবাউ নাসিহাতাকা ওয়া আহফাজু ওয়াসিয়্যাতাকা।‘
অর্থ : ‘হে আমার আল্লাহ! তুমি আমাকে সত্যিকার অর্থে তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও তোমার স্মরণে অনেক বেশি রত থাকা, তোমার আদেশ অনুযায়ী চলার এবং তোমার বিধি-নিষেধ মেনে চলার তাওফিক দান কর।‘
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বিরাহমহীনভাবে এই দোয়া করি।’ (তিরমিজি)

– হজরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, (আল্লাহর) কৃতজ্ঞতার উৎসস্থল হলো ‘হামদ’ (তথা আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা)। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার ‘হামদ’ তথা গুণকীর্তন করেনি, প্রকৃত অর্থে সে তার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জ্ঞাপন করেনি।’ (মিশকাত)

বিশ্বময় মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে আল্লাহ তাআলা এখনও আমাদের মধ্যে যাদের সুস্থ রেখেছেন তাদের কী পরিমাণ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা জরুরি তা কি আমরা ভেবে দেখেছি?

আলহামদুলিল্লাহ! তিনি আমাদের সুস্থ রেখেছেন, সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো পথে ও মতে বেশি বেশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা জরুরি। তা হতে পারে রাতের নামাজ, দিন রাতের দোয়া, তাওবাহ-ইসতেগফার ও জিকির আজকার।

আসুন, বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পদ্ধতি নিয়ে একটু চিন্তা ফিকির করি। আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী বান্দা হওয়ার চেষ্টা করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই উত্তম আদর্শ অনুসরণ করার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :