কোম্পানীগঞ্জের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ একজনের মৃত্যু

কোম্পানীগঞ্জের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ একজনের মৃত্যু

জাতীয়

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আলাউদ্দিন নামে একজন।

এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক।নিহত আলাউদ্দিন (৩২) উপজেলার চর ফকিরা ইউনিয়নের চর কালি গ্রামের মমিনুল হকের ছেলে।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বসুরহাট পৌর শহরের রূপালি চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের মৃত্যুর তিন সপ্তাহ না যেতেই এই ঘটনা ঘটল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় আবদুল কাদের মির্জা ও তার লোকজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে বসুরহাটের রূপালি চত্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

সমাবেশ চলা অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে হঠাৎ করে আবদুল কাদের মির্জার সমর্থকরা পৌরসভা ভবন থেকে বের হয়ে ধাওয়া দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এরপর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভাঙচুর চালায়। মুহুর্তের মধ্যে পুরো কোম্পানীগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ ও র‌্যাব লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বসুরহাট পৌরসভা চত্ত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। এ সময় তিনি দাবি করেন, সোমবার (৮ মার্চ) খিজির হায়াত খানকে তিনি লাঞ্ছিত করেননি। বরঞ্ছ উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তার বিরুদ্ধে অপরাজনীতিকারীরা মিথ্যাচার করছে এবং পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজাচ্ছে। গতকাল রাতে খিজির হায়াত খান ও মিজানুর রহমান বাদলের লোকজন বাজারে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৮ মার্চ) বিকালে বসুরহাট পৌরসভার রূপালী চত্ত্বরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

খিজির হায়াত খান জানান, দলীয় কার্যালয়ের পাশে অবস্থানের সময় হঠাৎ করে আবদুল কাদের মির্জা, তার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এক পর্যায়ে মির্জা কাদের খিজির হায়াত খানের পাঞ্জাবি ধরে তাকে বাহিরে নিয়ে এসে তাকে মারধর করে। মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার সাথে থাকা লোকজন তাকে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে। বিষয়টি পুলিশকে জানালেও পুলিশ তাকে কোনো সহযোগিতা করে নাই।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :