কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ

কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ

অর্থনীতি

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

গতবারের চেয়ে বর্গফুটে ৫ টাকা বেশি ধরে এবারের কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম ঠিক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

খাসি ও বকরিতে বর্গফুটে দাম বেড়েছে ২ টাকা। তবে এই দামেই যেন চামড়া কেনাবেচা হয়-সেজন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বেশি দামে কোরবানি পশুর কাঁচা চামড়া কিনে লোকসান। সময় মতো লবণ না দেয়ায় চামড়ায় পচন। ফলে দরপতন। গেল কয়েক বছর ধরেই কোরবানির পশুর চামড়ার দর নিয়ে চলছে এমনই অস্থিরতা। 

এমন ঘটনা যেন না হয় সেজন্য এবার প্রথমবারের মতো কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য দেশব্যাপী থানা ও ইউনিয়নে স্থাপন করা হবে অস্থায়ী সংরক্ষণাগার। কোরবানি পশুর চামড়ার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত অনলাইন অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা।

তিনি জানান, কোরবানির পশুর চামড়ার মান নিয়ন্ত্রণ এবং সংরক্ষণের জন্য প্রথমবারের মত ট্যানারি মালিক এবং লোকাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহের আগ পর্যন্ত যাতে তারা লবণ দিয়ে সংরক্ষিত করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ সময় ঈদের পরে চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবহনে এ শিল্পকে কঠোর বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াকরণে ঈদের পরে ট্যানারি কারখানা খোলা রাখার প্রস্তাব দেন মালিকরা।

 বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, আমাদেরকে কিছুটা ছাড় দিতে হবে। চামড়া সংরক্ষনে ট্যানারি খোলা রাখতে এবং মাল পরিবহনে ট্রাক চলাচল করতে না দিলে আমাদের সমস্যা হয়ে যাবে।

পরে বৈঠকে ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবারের কোরবানি পশুর চামড়ার দাম ঠিক করা হয়। গতবারের চেয়ে গরুতে বর্গফুট প্রতি ৫ টাকা ও খাসি-বকরিতে বেড়েছে ২ টাকা।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই আমরা চামড়ার এ দাম নির্ধারণ করেছি। ঢাকায় এ বছর প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আর ঢাকার বাইরে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা। অন্যদিকে, খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ১৫ থেকে ১৭ টাকা এবং ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ হয়েছে বকরির চামড়া।

এছাড়া দেশে শিল্প লবণের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। চামড়া সংরক্ষণে লবণের ব্যবহারে কোনো ঘাটতি হবে না বলেও জানানো হয়েছে আলোচনায়।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :