গোনাহকে নেকিতে পরিণত করার আমল

গোনাহকে নেকিতে পরিণত করার আমল

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

মুমিন মুসলমানের জন্য এটি অনেক বড় সুসংবাদ যে, আসমান থেকে একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন- ‘যাও! তোমাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। আর তোমাদের গোনাহগুলো নেকিতে পরিণত করে দেয়া হয়েছে।’ একটি নেক আমলের বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে এ সুযোগ দেবেন। কী সেই আমল?

হ্যাঁ, শুধুমাত্র মহান আল্লাহর জিকির তথা স্মরণেই এ মর্যাদা পাওয়া সম্ভব। আল্লাহ তাআলা বান্দার জিকির, নেক আমল ও তাওবাহ-ইসতেগফারের মাধ্যমে গোনাহ ক্ষমা করে দেন। এমনকি বান্দার জিকির তথা আল্লাহর স্মরণ তাদের গোনাহগুলো নেকিতে পরিণত করে দেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো দল যদি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য তার জিকির বা স্মরণে একত্রিত হয় তখন আসমান থেকে একজন ফেরেশতা তাদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন- ‘যাও! তোমাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। তোমাদের গোনাহসমূহ পুণ্য (নেকি) দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি, মুসনাদে আবু ইয়ালা)

মুমিন মুসলমানের উচিত, যে কোনো মজলিশে মহান আল্লাহর জিকির আজকার করা। আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ব প্রকাশ করা। আল্লাহর নেয়ামতের বর্ণনা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। বেশি বেশি তাওবাহ-ইসতেগফার করা। কুরআনুল কারিম তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করা। এসব আমলে আল্লাহ তাআলা বান্দার গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তাদের গোনাহগুলোকে নেকিতে পরিণত করে দেবেন।

মনে রাখতে হবে
তাওবা-ইসতেগফারই মহান আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বড় জিকির। কেননা শয়তানের প্রতিজ্ঞায় বান্দার ক্ষমা পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম তাওবা-ইসতেগফার। এ কারণেই বান্দা তাওবা-ইসতেগফারের মাধমে আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করবে। শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। হাদিসে পাকে এসেছে-
‘শয়তান বলল, হে রব! আপনার ইযযতের কসম! আপনার বান্দাদের আমি পথভ্রষ্ট করতেই থাকব যতক্ষণ তাদের দেহে প্রাণ থাকবে। তখন আল্লাহ (শয়তানকে লক্ষ্য করে) বললেন, আমার ইজ্জত ও সম্মানের কসম! আমিও তাদের ক্ষমা করতে থাকব যতক্ষণ তারা ইসতেগফার করতে থাকবে; ক্ষমা চাইতে থাকবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)

শুধু তাই নয়, যে ব্যক্তি (আল্লাহকে স্মরণ রাখার ও ক্ষমা পাওয়ার স্বার্থে) এ তাওবাহ-ইসতেগফার করবে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে, যদিও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে।’ আর আল্লাহকে স্মরণ রাখার অন্যতম মাধ্যমগুলো হলো-
– أَستَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
নিয়ম : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ইসতেগফারটি ৩ বার পড়তেন।’ (মিশকাত)

– أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘
অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি।
নিয়ম : এ ইসতেগফারটি প্রতিদিন ৭০/১০০ বার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করতেন।’ (বুখারি)

– رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ (أنْتَ) التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা (আংতাত) তাওয়্যাবুর রাহিম।’
অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।’
নিয়ম : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

– أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আস্‌তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।’
অর্থ : ‘আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

নিয়ম : দিনের যে কোনো ইবাদত-বন্দেগি তথা ক্ষমা প্রার্থনার সময় এভাবে তাওবাহ-ইসতেগফার করা। হাদিসে এসেছে- এভাবে তাওবাহ-ইসতেগফার করলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত)

– সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহ্দিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগ্ফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নেয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।’

নিয়ম : সকালে ও সন্ধ্যায় এ ইসতেগফার করা। ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর এ ইসতেগফার পড়তে ভুল না করা। কেননা হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি এ ইসতেগফার সকালে পড়ে আর সন্ধ্যার আগে মারা যায় কিংবা সন্ধ্যায় পড়ে সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, তবে সে জান্নাতে যাবে।’ (বুখারি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার বেশি বেশি স্মরণ করার তাওফিক দান করুন। বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :