গোয়ালকান্দীতে মৃত সন্তানের দাফনের আগে হলো পিতা মাতার তালাক

গোয়ালকান্দীতে মৃত সন্তানের দাফনের আগে হলো পিতা মাতার তালাক

রাজশাহী

মোঃ আঃ আলিম সরদার,নিজেস্ব প্রতিনিধি :

মৃত নবজাতকের লাশ ২৪ঘন্টা বাড়িতে রেখে দাফনের আগেই হলো মৃত সন্তানের পিতা মাতার তালাক। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সমষপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়নের রামরামা গ্রামের মুকুল স্বপ্না দম্পতির নবজাতক গত শনিবার ভূমিষ্ঠ হয় এবং তার পরের দিন রবিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু রবণ করে।

স্বপ্নার পরিবার সূত্রে জানা যায়,গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সমষপাড়া গ্রামের ঠান্টু প্রামাণিকে মেয়ে স্বপ্না বেগম ও একই ইউনিয়নের রামারামা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে মুকুলের সাথে তিন বছর পূর্বে বিয়ে হয়।বিয়ের পর থেকে স্বপ্নার শ্বামী মুকুল নেশা করে এসে স্বপ্না কে প্রায় মারধোর করতো।

সন্তান পেটে আসার পর মারধোর করার কারনে স্বপ্না তার বাবার বাড়ি চলে আসে এবং বাবার বাড়িতেই থাকতে শুরু করে।পেটে সন্তান ৭মাস হওয়ার পর নানান সমস্যা দেখা দিলে তাহেরপুর স্পন্দন ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড রোজা ক্লিনিকে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় কিন্তু নবজাতক অসুস্থ্য হলে কর্তব্যরত ডাক্তার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন।

সেখানেই রবিবার সন্ধ্যায় নবজাতক মৃত্যু বরণ করে। সোমবার সকালে নবজাতকের দাফন করার কথা থাকলেও বাধা দেয় নবজাতকের পিতা মুকুল হোসেন। এ ব্যাপারে মুকুল বলেন,৭মাস থেকে আমি বেশ কয়েক বার চেষ্টা করেছি আমার স্ত্রী কে আমার বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে।দু বার শালিশ করেও আমার স্ত্রী আমার বাড়িতে যাইনি।এমন কি সন্তান প্রসব হওয়ার পরেও আমাকে আমার সন্তান কে দেখতেও দেওয়া হয়নি।

আমার শশুড় বাড়ির লোকজনের অবহেলার কারণে আমার বাচ্চা মারা গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হস্তক্ষেপে শালিসী বৈঠক বসালে দুই পরিবারের সম্মতিতে মুকুল স্বপ্নার তালাক সম্পন্ন হয়। ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান শেখ বলেন,আমাদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাঁর বাড়িতে আরো স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের উপস্থিতি তে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে তালাক হয়েছে।

মুঠোফোনে গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর সরকার বলেন,আমি বিষয়টা শুনেছি মাত্র এর বেশি কিছু জানি না। দম্পতির তালাকের পর এবং নবজাতকের মৃত্যুর ২৪ঘন্টা পর সোমবার রাতে দাফন হয়।তবে নবজাতকের পিতা বা দাদা কেউ দাফনে অংশ নেয়নি বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :