‘গোল্ডেন এ প্লাস’ দেখে যেতে পারলো না বাগমারার পুরান তাহেরপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী সাফিয়া

‘গোল্ডেন এ প্লাস’ দেখে যেতে পারলো না বাগমারার পুরান তাহেরপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী সাফিয়া

রাজশাহী

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল রাজশাহীর বাগমারার পুরান তাহেরপুর গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী সাফিয়া সিলভি মমতা (১৭)। পরীক্ষার তিনদিন পর সে মারা যায়। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে সাফিয়া। তার এ ফলাফলের খবরে আনন্দের পরিবর্তে শোকের মাতম চলছে পরিবারে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাফিয়ার মা মরিয়ম খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘রেজাল্ট দেখলেই কষ্ট হবে, তাই দেখিনি। তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাসায় রেজাল্ট নিয়ে এনেছেন। শিক্ষক জানালেন সাফিয়া গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে।’

‘আজ বাড়ির সবার আনন্দিত হওয়ার কথা। পাড়া-প্রতিবেশীদের মিষ্টি খাওয়ানোর কথা ছিল। সেখানে বাড়িজুড়ে নীরবতা’, বলে কেঁদে ফেলেন মরিয়ম খাতুন।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার পুরান তাহেরপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে সাফিয়া। বাবা পেশায় ব্যবসায়ী। মা মরিয়ম খাতুন আলিয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পরিবারে সাফিয়াই ছিল বড়। তার ভাই মহিউদ্দিন খানের বয়স ১২ বছর।

মাদারীগঞ্জ সাফিক্স প্রি-ক্যাডেট কিন্ডারগার্টেন থেকে ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেয় সাফিয়া। ১৪ নভেম্বর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় তার। কিন্তু তার আগেই ১১ নভেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরদিন ভবানীগঞ্জের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, নাড়িতে স্পট বা আলসার ধরা পড়েছে।

১৭ নভেম্বর পরীক্ষা শেষে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সাফিয়াকে। সেদিন ছিল শুক্রবার। চিকিৎসক না থাকায় সেখান থেকে ডেলভিউ ক্লিনিক, তারপর পপুলার, আবার পপুলার থেকে আল-আরাফা। আল-আরাফা থেকে সাফিয়াকে পুনরায় ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে সাফিয়ার। অপারেশন করতে হবে আরও দেড় মাস পর।

২৫ নভেম্বর অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে ওটি (অস্ত্রোপচার কক্ষ) থেকে বের হয়ে সাফিয়ার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। পরে রাত ১২টা ৫০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে সাফিয়া।

মা মরিয়ম বলেন, ‘অনেক বারণ করেছিলাম কষ্ট করে পরীক্ষা দেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু সে শোনেনি। পরীক্ষা দিতে তার কোনো সমস্যা নেই বলে জানায় এবং সবগুলো পরীক্ষা অসুস্থ থেকেই দেয়। কিন্তু তার এতো ভালো রেজাল্ট সে দেখে যেতে পারলো না।’

বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ে আমার লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিল। একমাত্র কন্যাসন্তান ছিল আমার। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। বড় হয়ে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার বানানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো। পূরণ আর হলো না।’

সাফিয়ার প্রধান শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম সম্পর্কে সাফিয়ার মামা। তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে সে ছিল সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী। পড়াশোনার প্রতি তার ছিল অন্যরকম মনোযোগ। গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে সে সবাইকে কাঁদিয়ে গেছে। তার অকালে চলে যাওয়া কারও কাম্য ছিল না।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :