চলমান জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বিটিআরসি

চলমান জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বিটিআরসি

অর্থনীতি

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

ফোরজিতে ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি ৭ এমবিপিএস রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানছে না চার মুঠোফোন অপারেটরের কেউই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির করা জরিপে উঠে এসেছে মুঠোফোন অপারেটরদের এমন ফাঁকিবাজি।

জরিপে রাজধানীতে ফোরজিতে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি উঠেছে সেকেন্ডে ৫ দশমিক সাত দুই এমবিপিএস। তবে, ব্যতিক্রম রয়েছে থ্রিজি সেবায়। টেলিটক ছাড়া তিন অপারেটর নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে বেশি গতিতেই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। তবে কলড্রপের ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ হার দুই শতাংশের নিচেই রয়েছে চার অপারেটরের।

করোনাকালে কেনাকাটা, দাপ্তরিক কাজকর্ম, সামাজিক যোগাযোগে বেড়েছে মানুষের মুঠোফোন নির্ভরতা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কলড্রপ ও ইন্টারনেটের ধীরগতি নিয়ে গ্রাহক ভোগান্তি। এর প্রেক্ষিতে সেবার মান যাচাইয়ে সারাদেশে চলছে বিটিআরসির জরিপ কার্যক্রম।

বুধবার রাতে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে চালানো জরিপের ফল প্রকাশ করেছে বিটিআরসি। আর এতেই ফোরজিতে ন্যূনতম গতিতে ইন্টারনেট সেবা না দেয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে। জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর গ্রাহকরা ফোরজিতে ডাউনলোডে প্রতি সেকেন্ডে ৩ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ দশমিক সাত দুই এমবিপিএস গতি পাচ্ছেন। অথচ, বিটিআরসির বেঁধে দেওয়া মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বনিম্ন গতি ৭ এমবিপিএস রাখতে হবে। তবে ফোরজিতে আপলোডের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গতি এক এমবিপিএসের চেয়ে বেশি গতিতে সেবা দিচ্ছে অপারেটররা।

থ্রিজি সেবায় ডাউনলোডের গতি সেকেন্ডে সর্বনিম্ন দুই এমবিপিএস রাখতে হবে অপারেটরদের। সেখানে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট গতি ছিল সেকেন্ড ৩ দশমিক ৯৬ এমবিপিএস। রবির ৪ এমবিপিএসের বেশি। বাংলালিংকের ৩ দশমিক ৯৯ এমবিপিএস। টেলিটকের ১ দশমিক ৭৪ এমবিপিএস। নীতিমালা অনুযায়ী কলড্রপ হার দুই শতাংশের নিচে রাখতে হয় অপারেটরদের। সেখানে গ্রামীণফোনের কলড্রপের হার শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ; বাংলালিংক শূন্য দশমিক ৩১, রবি শূন্য দশমিক ৩৭ এবং টেলিটক ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালন বিভাগের কমিশনার প্রকৌশল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনগণ সাফার হচ্ছে, এটা তো কাঙ্ক্ষিত না। যদি দেখি তাদের সার্ভিস উন্নত করেনি সেই আগের অবস্থানে তারা আছে, তখন বিটিআরসি তাদের আর্থিক জরিমানা করতে পারে।     

বিটিআরসি বলছে, সারাদেশে চলমান জরিপ কার্যক্রমের ফলাফলের ভিত্তিতে অপারেটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজধানী ঢাকায় গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই জরিপ কার্যক্রম চালায় বিটিআরসি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :