চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদে কৃষককে নির্যাতনের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদে কৃষককে নির্যাতনের অভিযোগ

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১২ নং চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপুর টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শাহজাহানপুরে বিলকান্ধী গ্রামের মৃত সাইদুরের ছেলে শহিদুল ইসলাম। চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে নির্যাতক করেন চেয়ারম্যান টিপু বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার ১৭ অক্টোবর চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

আকুতি মিনতি করেও মন গলেনি চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপুসহ টর্চার সেলে উপস্থিত লোকজনের। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গত ৫ বছরে বিভিন্ন সময় ১৩৬ জনকে নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, সাইকেল চুরি যাওয়া ব্যক্তিকে শান্তনা দিতেই যুবককে শাস্তি দিয়েছেন। স্থানীয়রা এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক বলে চেয়ারম্যানের শাস্তি দাবি করেন ।

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, চরবাগডাঙ্গা বাজারে একটি বাইসাইকেলে ধাক্কা লাগলে সেটি পড়ে যায়। পরে সাইকেলটি তুলতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন চোর সন্দেহে ধরে মারধর করে শুরু করে। এক পর্যায়ে ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যানের নিজস্ব ঘরে নিয়ে যান। পরে চেয়ারম্যানের কয়েকজন সহযোগী জুয়েল, নূরুল, ধূলূ ও বাবলু পা বেঁধে হাত ধরে থেকে, আর গলায় গামছা পেঁচিয়ে। আর গ্রাম পুলিশের লাঠি দিয়ে টিপু চেয়ারম্যান এলোপাতাড়ি মারা শুরু করে চেয়ারম্যান। মারতে মারতে মেরে ফেলার কথাও বলে। কোনভাবেই রেহাই পাইনি আমি। দ্রুত চেয়ারমানের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী শহিদুলের বড় ভাই সিরাজুল বলেন, আমার ভাইকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে পিটিয়েছে চেয়ারম্যান। এটা কেমন নির্যাতন । আমরা আইনের কাছে বিচার চাই।

চেয়ারম্যানের হাতে আরও নির্যাতনের শিকার এমরান ও আব্দুল খালেক বলেন, চোর সন্দেহে এক রাতেই ২৫ জনকে ইউপি পরিষদে ভরে মারধর করেছেন চেয়ারম্যান। তার কাজই হচ্ছে বাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা। কার ক্ষমতাবলে এতোকিছু করতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদে তার নিজস্ব ‘টর্চার সেল’ তৈরি করে এভাবে নির্যাতন করে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, শুধু এ ঘটনাই নয়। এর আগে বেশকিছু ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে নিজস্ব নিজস্ব টর্চার সেলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন চেয়ারম্যান টিপু। তারাও চেয়ারম্যানের শাস্তিও দাবি করেন।

১২ নং চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর আলী জানান, আমিও দীর্ঘদিন এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এমনটা কখনো করিনি। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন করা ঠিক হয়নি। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

১২ নং চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বর্তমান এক ইউপি সদস্য জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের এমন কার্যকালাপ সম্পূর্ণ অপরাধমূলক। একজন ব্যক্তি চুরি করতে পারে, এমন নয় যে, চুরির অপরাধে আইন নিজের হাতে তুলে নেবে। সে (চেয়ারম্যান) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারতো। তা না করে প্রশাসনের ক্ষমতা নিজে হাতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছে।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপুর দাবি, বাইসাইকেল চুরি যাওয়া ব্যক্তিদের শান্তনা দেয়ার জন্য এমন কাজ তিনি করেছেন। টর্চার সেলের বিষয়টি স্বীকার করলেও সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দেন চেয়ারম্যান শাহীদ রানা টিপু। আর এমন কাজ কেনো করতে পারবেন না তিনি- সেই প্রশ্ন রাখেন গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান জানান, বিষয়টি জানা নেই। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের পর সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগে পেলে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :