চারঘাটে মিথ্যা অপহরণ নাটক সাজিয়ে দুলাভাইকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ শ্যালকের বিরুদ্ধে

চারঘাটে মিথ্যা অপহরণ নাটক সাজিয়ে দুলাভাইকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ শ্যালকের বিরুদ্ধে

রাজশাহী

লিয়াকত রাজশাহী:

পুঠিয়াতে শ্যালক আমিনুল ইসলামের করা মিথ্যা মামলায় দুলাভাই রবিউল ইসলাম এখন কারাগারে। গতকাল বৃহস্পতিবার রবিউল ইসলামের জামিন ধরলে জামিন না মঞ্জুর করে এবং রিমান্ড না দিয়ে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। রবিউল ইসলামের স্ত্রী নিহারা বেগম ও আমিনুল আপন দুই ভাই বোন।

নিহারা বেগমের জা নিমপাড়া ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি মৌসুমী খাতুন বলেন, নিহারা ও রবিউল স্বামী স্ত্রী হলেও তারা চাচাতো ভাইবোন। এ সুবাদে পাশাপাশি বাড়ি তাদের।মৌসুমী আরো বলেন, আমিনুল ইসলাম তার নিজ নামীয় একটি সম্পত্তি দুইজনের নিকট বায়না করেন এবং টাকা নেন।

সেইসাথে বাড়ির ভিটাও বিক্রি করার কথা বলেন। এতে রবিউল বাধা দেন। কারণ অন্য লোক তাদের মধ্যে প্রবেশ করলে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে বলে তিনি বাড়ির ভিটা বিক্রি করতে দেন না এবং একই জমি দুই জনের নিকট বিক্রি করার প্রতিবাদ করেন। এসব বিষয় নিয়ে আমিনুল তার উপর ক্ষিপ্ত হন।

তাকে শায়েস্তা করতে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী একটি অপহরণ নাটক সাজান আমিনুল। আর এতে সহযোগিতা করেন কাঁটাখালি এলাকার কথিত কোর্টের দালাল জিয়াউর রহমান জিয়া।

আমিনুলের বোন, রবিউল এর স্ত্রী নিহারা জানান, আমিনুল তার নিজের ভাই। কিন্তু আমার স্বামীকে শায়েস্তা করে নির্বিঘ্নে সকল জমি বিক্রি করতে আমিনুল এই নাটক করেন। তারা মামলায় যা উল্লেখ করেছেন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জিয়ারুল আমিনুলকে নিয়ে অপহরনের নাটক সাজান এবং রবিউলকে জমির সকল কাগজপত্র নিয়ে কাঁটাখালী আসতে বলেন।

কিন্তু আমিনুল পুঠিয়াতে আটক ছিলেন বলে সাংবাদিকদের নিকট জানান। পরে ষড়যন্ত্র করে মামলার এজাহারে কাঁটাখালি দেখানো হয় বলে জানান,আমিনুলের বোন নিহারা।
এই মামলায় কাঁটাখালী থানার পুলিশ রাতের অন্ধকারে চারঘাট থানা এলাকায় প্রবেশ করে রবিউলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসলেও প্রথমে অস্বীকার করে কাঁটাখালী থানা পুলিশ। শুধু আটক নয় গ্রেফতার করে হাতে হ্যান্ডকাপ থাকা অবস্থায় বিবাদী আমিনুল ও তারসঙ্গীরা রবিউলকে মারধর করে বলে জানান নিহারা।

শুধু তাই নয় প্রথমে তার স্বামীকে থানায় না নিয়ে বিবাদীগণ ও পুলিশ অন্যস্থানে নিয়ে গিয়ে মুখে রোমাল বেধে অমানুষিক নির্যাতন করে বলে দাবী করেন রবিউলের স্ত্রী। নির্যাতনের দাগ এখনো রবিউল এর গায়ে আছে বলে তিনি জানান ।

তিনি আরো বলেন, এর আগে ফেব্রুয়ারী মাসের ২৫ তারিখ আমিনুল ইসলাম ও তার বড় মায়ের ছেলে আলতাব হোসেন, মোন্তাজ আলী, ইন্তাজ, এমদাদুল ও আলতাবের ছেলে শাকিল মিলে তার স্বামী রবিউলকে মারপিট শুরু করে। স্বামীকে বাঁচাতে তিনি ও তার মেয়ে রত্না এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বেধরক মারপিট করে এবং থাটের তোষকের নিচে থাকা এক লক্ষ টাকা এবং মেয়ের স্বর্নের ১২আনা ওজনের গহনাসহ ব্যাগ নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

এনিয়ে উপরোক্ত ব্যক্তিদের আসামী করে চারঘাট থানায় একটি অভিযোগ করেন বলে জানান নিহারা বেগম। এখন তারা কোর্ট খুললে আগামী রোববার কোর্টে তার আপন ভাই আমিনুল ও অন্যান্য ভাই ভাতিজাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান তিনি।

এ ঘটনা সম্পর্কে আমিনুলের নিকট মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপহরনের ঘটনা সত্য। তিনি কাঁটাখালিতে কাজ করেন। প্রতিদিন এখানে আসেন। কাঁটাখালী থেকেই তাঁকে মোটর সাইকেলে জোর করে তুলে নিয়ে পুঠিয়ার একটি বাগানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে এবং টাকা ও জমির কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় রবিউল গংরা।

এনিয়ে তিনি রাজশাহী কোর্টে মামলা করলে কোর্ট কাঁটাখালী থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন বলে জানান তিনি। বোন কর্তৃক তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন আমিনুল।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :