জয়পুরহাটে জঙ্গি-পুলিশ সংঘর্ষ: ১৮ বছরেও শুরু হয়নি বিচার

জয়পুরহাটে জঙ্গি-পুলিশ সংঘর্ষ: ১৮ বছরেও শুরু হয়নি বিচার

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

২০০৩ সালের এদিন জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে গোপন বৈঠকের সময় জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডারদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ হয় পুলিশের। এতে শীর্ষ ২০ জঙ্গি আটক হলেও লুট হয় পুলিশের অস্ত্র।

ঘটনার পর ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও শুরু হয়নি এর বিচার কাজ। আইনজীবীর দাবি, আইনি বাধ্যবাধকতায় বিলম্বিত হচ্ছে এর বিচার প্রক্রিয়া।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের উত্তর মহেশপুর গ্রামে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হয় শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের। স্থানীয় জঙ্গিনেতা মন্তেজারের বাড়িতে গোপন বৈঠকের সময় পুলিশ ঘেরাও করলে এ সংঘর্ষ হয়।  

একপর্যায়ে সদর থানার ওসিসহ ছয় পুলিশকে আহত করে ওয়াকিটকিসহ পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। পরদিন ২০ জঙ্গিসহ আটক ৩৩ জন ও অজ্ঞাত ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে সিআইডি ৬১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আরও দুই মামলা হলে সিআইডি ওই ৬১ জনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে অভিযোগপত্র দেয়। পরে সব আসামি জামিন নিলেও শীর্ষ ১৩ জঙ্গিকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার করে রাখা হয় বিভিন্ন কারাগারে।  

আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই এ মামলার বিচার দেরি হচ্ছে বলে দাবি আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের। তিনি বলেন, সরকারের অধিনে থাকলে সেই আসামির অনুপস্থিতিতে কোন পদ্ধতিতে বিচার করা সম্ভব না। ন্যায়সঙ্গতভাবেই এই বিচারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
       
পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল বলছেন, নির্ধারিত তারিখে আসামিরা হাজির না হওয়ায় শুরু হচ্ছে না বিচার। জঙ্গিরা দেশের বিভিন্ন স্থানের কারাগারে থাকায় এই মামলায় তাদের আনা সম্ভব না হওয়ার কারণে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পারছি না।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পলাতক জঙ্গিদের গ্রেপ্তার ও আসামিদের উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে আলোচিত এ মামলার বিচার কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জেলাবাসীর।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :