টিকটক-লাইকি বন্ধের দাবি, আছে ভিন্নমত

টিকটক-লাইকি বন্ধের দাবি, আছে ভিন্নমত

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

সম্প্রতি ভারতে দলবেঁধে এক তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনার ভাইরাল হওয়ার টিকটক-লাইকির মত অ্যাপ বন্ধ করার দাবি ওঠেছে। তবে সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা এর সঙ্গে একমত নন।

তারা বলছেন, এসব অ্যাপ বন্ধ করো কোনো লাভ হবে না বরং নজরদারি জোরদার করতে হবে।  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বলছে, অশ্লীলতা বন্ধে কঠোর অবস্থানে তারা।

বিশ্ব মজেছে টিকটকে; মজেছেন নামকরা সেলিব্রেটিরাও। পিছিয়ে নেই শিশুরাও। ভিডিও তৈরি ও শেয়ারিংয়ের চীনভিত্তিক অ্যান্ড্রয়েড এই অ্যাপটি এখন তুমুল জনপ্রিয়।

বিভিন্ন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সংলাপ, গানের কথোপকথন, মজাদার অডিওর সঙ্গে মিল রেখে অ্যাপস ব্যবহারকারীরা মুখ বা অঙ্গভঙ্গি মিলিয়ে তৈরি করে ভিডিও।

কিছুটা কমেডি বা অভিনয় দিয়ে নিজের প্রতিভা সবার সামনে তুলে ধরতে চান সবাই। বেশ কিছু মানুষের কাছে টিকটক আবার রোজগারেরও মাধ্যমও হয়ে উঠেছে। যার ফলোয়ার যতো বেশী তার ইনকাম ততো বেশী। আর এ কারণে ফলোয়ারের নেশায় এক ধরনের পাগলামি শুরু হয়েছে প্লাটফর্মটিতে।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে যৌনতায় ভরপুর থাকে বেশীরভাগ কন্টেন্ট।তৈরি হয়েছে টিকটকের বিভিন্ন গ্রুপ। ঘটা করে হাজার হাজার গ্রুপ সদস্য ঘুরতে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। আর এখান থেকেই অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে অনেকে।

সম্প্রতি, ভারতে দলবেঁধে তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনার পর টিকটকের ভয়াবহতা আবারো প্রকাশ পেয়েছে সবার মাঝে।  গ্রুপভিত্তিক এসব ভিডিও বানাতে গিয়ে সস্তা তারকা খ্যাতির আশায় পাচার হয়েছেন অনেক তরুণী। এ অবস্থায় টিকটকের মত অ্যাপস ব্যবহার বন্ধের দাবি করছে সাধারণ মানুষও।

বিগত কয়েক বছরে টিকটকারদের অপরাধের প্রবণতা বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি তেমন একটি দেখা যায়নি।  যদিও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসেছে তারা।

তবে, অপরাধ কমাতে এসব অ্যাপস বন্ধ করা হবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। সমাজ ও অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের সংস্কৃতির সাথে শিশুরা যদি অভ্যস্ত হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অসুস্থভাবেই চলবে।  

অপরাধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, মাথা ব্যাথার জন্য মাথা কেটে ফেলা এই ধরনের চটকদার সিদ্ধান্তে আমি বিশ্বাসী না। খুবই সতর্কতার সাথে এইটা যেন তারা ব্যবহার করতে পারে সেই ব্যবস্থাটা করতে হবে। এই বিষয়গুলোর ওপর একটা নজরদারিও রাখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ গবেষক তৌহিদুল  হক বলেন, এটা বন্ধের পরবর্তী কাজ যদি ঠিকমতো করতে পারে তাহলে আমি বন্ধের পক্ষে। আর সেটি যদি করতে না পারে তাহলে আমাদের বক্তব্য হলো এই গুলোকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আশা হোক। চাইলে এটা কোন কঠিন কাজ না, এটা এক সপ্তাহের কাজ। সাত দিনের মধ্যে পুরো ভিডিওগুলো নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে আসবে। 

শিশু কিশোরদের অপরাধ কমাতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করেছে টিকটক ও লাইকির মত বিভিন্ন অ্যাপস।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :