তাহেরপুরে সবজির বাজার মন্দা: কৃষকেরা হতাশ

তাহেরপুরে সবজির বাজার মন্দা: কৃষকেরা হতাশ

তাহেরপুর

আঃ আলিম সরদার,নিজেস্ব প্রতিনিধি :

বুকভরা আশা আর নয়নভরা স্বপ্ন নিয়ে ফুলকপি চাষ করেছিলেন কৃষক বাবু । ক্ষেতের সবুজ গালিচা ভেদ করে তারার মতো ফুটেছিল ফুলকপি। সোনালী রঙের ফুলকপি দেখে স্বপ্ন রাঙিয়ে নিয়েছিলেন কৃষক বাবু। কিন্তু সেই স্বপ্ন মলিন হয়ে গেছে তার। বাজারে ফুলকপির দাম নিয়ে চলছে রীতিমত তামাশা। কৃষক বাবুর বাড়ি বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌর এলাকায়।

কৃষক বাবু জানান, অনেক আশা নিয়ে তিনি দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছিলেন। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু ফুলকপির দাম নেই বাজারে। ফুলকপি ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে নেয়া পর্যন্ত যে খরচ তাও উঠছে। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা। এক মণ ফুলকপি বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১০০টাকায়। বাজারে ফুলকপি নিয়ে গেলে বেপারীরা ঠাট্টা করে। কেউ কেউ এসে মজা করে ফুলকপি মাথায় ধরে।

একই কথা বলেন রামরামার কৃষক মাইনুল । তিনি এবার ১ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। প্রতিবিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৭হাজার টাকা। কিন্তু সর্বসাকুল্যে একবিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি করেছেন মাত্র ৬ হাজার টাকায়। গ্রামের বাজারে দাম কম। অথচ শহরের বাজারে দাম বেশি। গ্রামের বাজারে যে ফুলকপি আড়াই টাকা কেজি শহরের বাজারে তার দাম ৮-১০টাকা। লাভের অংশ খেয়ে ফেলছে মধ্যস্বস্ত্বভোগীরা।

এদিকে দুর্গাপুর উপজেলার আনলীয়া গ্রামের বেগুন চাষী মোঃ সামাদ, মোঃ গোফফার, মোঃ মজনু জানান, তাহেরপুর হাটে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১০ টাকা। সেই বেগুন রাজশাহীতে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। কৃষকদের ক্ষেত থেকে পাইকারী বিক্রেতারা কিনছেন ৬-৮ টাকা কেজি দরে। কৃষক ও ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে একটি চক্র। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

কৃষকরা বলেন, এ বছর বর্ষার কারণে জমিতে বেগুন, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির চারা একাধিকবার রোপন করতে হয়েছে। সবজি চাষে ব্যাপক খরচ ও খাটা-খাটুনি করতে হয়। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেমন কোন অর্থ পাওয়া যায় না। যারা অর্থ পাচ্ছে তারা তরকারীর চাষ করে না। সবজি বিক্রি করে লেবার খরচের টাকা উঠছে না।

ব্যবসায়ীরা জানান, পেঁয়াজ ২২ টাকা, রসুন ৭০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ১৫টাকা বাঁধাকপি ৮ টাকা, পেঁয়াজেরকালি ৮ টাকা, মূলা ২টাকা, পালং ৭ টাকা, শিম ১২ টাকা, ধনেপাতা ৫ টাকা আঁটি, পটল ৩৫টাকা, টমেটো ৩০টাকা, ওলকপি ৭ টাকা, বেগুন ১০ থেকে ১২টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, গাজর ৩০টাকা, উচ্ছে ৭০ টাকা, কলা ১৫ টাকা, কাচাঝাল ৮০টাকা, কাগজি লেবু পিস ৫ টাকা, খিরাই ২৫ টাকা, ডাটাশাক তাড়ি ৮টাকা, কচু ২০ টাকা, পুঁইশাকের মটুরি ৩০ টাকা, আলু ৩০ টাকা ও ব্রুকলি ৩০ টাকা দরে পাইকারী বাজারে বিক্রয় হচ্ছে। অথচ এসব সবজির দাম শহরে দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তাহেরপুর পৌরসভার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আঃ মতিন বলেন,তাহেরপুর পৌরসভায় এবার চলতি রবি মৌসুমে ১৪০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এরমধ্যে
আলু চাষ করাহয়েছে ১০০ হেক্টর এবং ৪০ হেক্টট জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ হয়েছে। সবজির বাম্পার ফলনের কারণে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সবজি পাঠানো হচ্ছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :