তাহেরপুর পৌরসভায় সর্বত্রই মানুষের ঢলে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই !

তাহেরপুর পৌরসভায় সর্বত্রই মানুষের ঢলে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই !

তাহেরপুর

নাজিম হাসান( রাজশাহী )প্রতিনিধিঃ

হালনাগাদ সময় : সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১ ২২৪৯ বার নভেল করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ দেশে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরিস্থিতি পাল্টে যেতে দেখা যাচ্ছে রাজশাহীর বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার হাট-বাজারে। বর্তমানে রাস্তায় মানুষের ঢলাচল আর যানজট অনেকটা আগের মতোই চলছে।

এবং খুব কম মানুষ মাস্ক পরে রাস্তায় বের হচ্ছেন। তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব হারিয়েছে। কাঁচাবাজার শুধু নয়,ধান,পান,পেয়াজ,রসুন,গরু-ছাগলের হাটসহ ব্যাংক ইনজিও পাড়া মহল্লতে পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাউকে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে না। মানুষ অনেকটা বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে চলাফেরা– এবং যাতায়াত করছে। তবে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো সরকারি উদ্যোগ নেই।

সরজমিনে গতকাল সোমবার সকালে হাট ঘুরে দেখাগেছে,রাজশাহীর জেলার সর্ব বৃহতম ব্যাণিজ্যিক হাট তাহেরপুর পৌরসভা। এখানে সপ্তাহে দুদিন শুক্রবার ও সোমবার কাক ডাকা সকাল থেকে ধান,পাট,পান,কলা,পিয়াজ,রসুন,গুরু-ছাগল,কাচা সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের সামগ্রীর হাট বসে। বর্তমানে ধান পেয়াজ,পাটসহ বিভিন্ন হাটের নির্দিষ্ট স্থান না থাকার কারনে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় ইজারাদারেরা ছোট সড়ক ও মহাসড়ক জবর দখল করে ভোর থেকে হাট বসিয়ে থাকেন।

এবং মহাসড়কের ওপর ভ্যান, ভটভটি, অটোরিক্সা, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে বিভিন্ন পন্য তোলা-নামা করে। এতে করে মানুষ ও সকল প্রকার যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসির অভিযোগ, তাহেরপুর পৌরসভা থেকে কোটি কোটি টাকার টেন্ডারের মাধ্যমে কয়েকজন স্থানীয় ইজারাদারেরা প্রতি বছর হাট নিয়ে থাকেন। এরপর তারা গরু-ছাগলসহ হাতেগনা কয়েকটি হাট নিজেদের কাছে রেখে বাকি হাট গুলো সাব-ইজারাদারদের কাছে বিক্রি করে দেন।

এরপর সাব-ইজারাদাররা পৌরসভার হাটের প্রতিটি রাস্তা ও মেইন মহাসড়কসহ হাটের বিভিন্ন সড়ক জবর দখল করে সেখানে পণ্যের সামগ্রীর হাট বসিয়ে ইংরেজ শাসন আমলের ন্যায় ইচ্ছামত ক্রেতা-বিক্রিতার কাছ থেকে জোরপুর্বক খাজনা আদায় করে থাকেন। কয়েকজন আড়ৎদারেরা বলছেন, আমাদের জন্য ইজারাদাররা স্কুল মাঠে ধান হাটে যায়গায় করে দিয়েছে।

সেখানে ভরাট মাটি ও পানি বন্দি হয়ে থাকায় আমরা সেখানে ধান ক্রয়-বিক্রয় করতে না পারায় বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর ধান কেনাবেচা করি। এদিকে,তাহেরপুর হাইস্কুল মেইনগেট থেকে শুরু করে পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত প্রধান সড়কের ওপর আড়ৎ বসিয়ে ধান কেনাবেচা করেন আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা।

ফলে শুক্র ও সোমবার হাটের দিনগুলোতে যানজট এতটাই তীব্র হয় যে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এবং ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় বিভিন্ন যায়গায় যাওয়া যাত্রী ও পথচারীদের। এছাড়া সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রাজশাাহী,নওগাঁঁ, নাটোর, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে বাস, ট্রাক, ভ্যান, ভটভটি,অটোরিক্সাসহ চলাচল করে থাকে।

গতকাল সোমবার সকাল সোয়া ৮ার দিকে, উপজেলা চেয়ারম্যান শ্রী অনিল সরকার তার নিজের ব্যবহত সরকারী জিপ গাড়ী নিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দিকে যাবার সময় যানজোট ও ভিড় দেখে তিনি বাইপাস সড়ক কলেজ রোড দিয়ে রাজশাহী জেলা শহরে যান। এবিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অনিল সরকাররের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে তাহেরপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল রাজ্জাক বলেন,সকাল থেকে আমার টহল পুলিশ হাট এলাকায় কাজ করছে। কিন্তু তার পরেও তাহেরপুরে বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই রাস্তায় ঘোরাঘুরিসহ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করছেন। এবং সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই আড্ডা দিচ্ছে। এছাড়া সড়কে হাট লাগার কারনে বিক্রিতা-ক্রেতাদের চাপে বাজার এলাকায় যানজটও তৈরি হচ্ছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :