' "দুর্গাপুরে কৃষি জমি রক্ষায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ"

‘”দুর্গাপুরে কৃষি জমি রক্ষায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ”

রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দুর্গাপুর কৃষি প্রধান এলাকার সত্ত্বেও ইতিমধ্যে আংরার বিল ,আনুলিয়া বিল, কয়ামজামপুর বিল ,ডাহার বিল ,কলিয়ার পদ্মবিল ও খলিয়ার বিলে অপরিকল্পিতভাবে ব্যাপক হারে পুকুর খননের কারণে বর্তমানে কৃষি জমি প্রায় অস্তিত্ব সংকটে।আগে রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় যে বিলে দেখা যেত সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠ এখন সেই ৫ নং মাড়িয়া ইউনিয়নের মৃধা পাড়া ও হোজার বিলে কৃষি জমি ধ্বংস করে অবাধে নির্বিঘ্নে দিন রাতে চলছে অবৈধ পুকুর খননের হিড়িক। স্থানীয় কৃষক হতাশ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কারন খননকারীরা এলাকার অতি প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় তাদের ভয়ে এই ধ্বংসাত্মক খনন বন্ধে প্রকাশ্যে কোথাও কোন অভিযোগ করতে পারছে না বলে
ভুক্তভোগি কৃষকরা জানান। এই ইউনিয়নে এভাবে নির্বিচারে পুকুর খনন অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন কৃষি ফসল উৎপাদনও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এই বিল ২ টিতে ব্যাপক হারে পুকুর খননের কারণে এই এলাকায় ভূমির শ্রেণী ব্যাপক আকারে পরিবর্তন হয়েছে। এতে পরিবেশগত নানান প্রতিকূলতার চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে আবাদি জমিতে পুকুর খনন বেআইনি তা জানা সত্ত্বেও খননকারীরা মানছেন না কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের কোন নিয়ম নীতি ও নির্দেশনা। কৃষি জমি যথাসম্ভব কৃষি কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করা ভূমি ব্যবহার নীতির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলেও বাস্তব অবস্থা এর বিপরীত। ভূমি
ব্যবহার নীতি ২০০১ এ বলা আছে কৃষি জমি কৃষি কাজে ব্যতিরেখে অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না কিন্তু এ নীতির বাস্তবায়নে দুর্গাপুর উপজেলায় প্রশাসনের তরফ থেকে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায় না।
বিশেষ করে এই উপজেলায় বিগত কয়েক বছরে প্রায় অর্ধেক আবাদি কৃষি জমি পুকুর খননের গ্রাসে ধ্বংস হয়েছে কিন্তু
যেটুকু জমি অবশিষ্ট রয়েছে তাতেও আবার

নতুন ভাবে চলতে শুরু করেছে খনন যন্ত্র ।তবে অধিকাংশ পুকুর খনন করা হয়েছে এবং হচ্ছে নিষ্কাশন নালা এমনকি ব্রিজ কালভার্টের মুখে ।হালকা বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে থাকে।এতে শুধু ফসল নষ্ট হচ্ছে না আবাদি জমিতে পুকুর খনন বেশি হওয়ায় অএ অঞ্চলের গৃহপালিত প্রাণীর চারণ ভূমিও ব্যাপক কমে যাচ্ছে। শুধুমাত্র চারনভূমির সংকটে মানুষ গরু ,মহিষ ও ছাগল প্রতিপালন ছেড়ে দিচ্ছেন l এ কারণে দুর্গাপুর উপজেলায় ধান, পাট, গম আলু, পিয়াজ, মরিচ, ভুট্টা সহ সকল প্রকার শাক সবজির উৎপাদন অনাকাঙ্ক্ষিত হারে কমে যাচ্ছে ।অস্বাভাবিক কৃষি জমি কমে যাওয়ার প্রবণতা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। কৃষি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার প্রধান ক্ষেত্র । ভূমি ছাড়া কৃষি সম্ভব না। কৃষক মানেই তার ভুমি থাকতে হবে । ভুমি না থাকলে কৃষক কোথায় চাষাবাদ করবে । তাই খাদ্য নিরাপত্তায় নিশ্চিতয়তার জন্য ভূমির বিকল্প আর কিছু ভাবা যায়না।তা সত্ত্বেও
দুর্গাপুর উপজেলায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র ছায়ায় সিন্ডিকেটের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবেই সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে খুশি করে উৎপাদনশীল আবাদি কৃষি জমিতে এই ধ্বংসাত্মক খনন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকা সূত্রে নানা অভিযোগ রয়েছে।
খননকারীদের আগ্রাসন
থেকে আবাদি কৃষি জমি রক্ষায় স্থানীয় কৃষকরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের দ্রুত আইনগত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :