নওগাঁরয় স্কুলছাত্রকে প্রস্রাব পানে বাধ্য করলেন শিক্ষিকা!

নওগাঁরয় স্কুলছাত্রকে প্রস্রাব পানে বাধ্য করলেন শিক্ষিকা!

রাজশাহী

মোঃ ইসরাফিল হোসেনঃ

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় স্কুলের ছাদে উঠে প্রস্রাব করায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে প্রস্রাব পান করানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। তদন্তে এর সত্যতা মিললে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গত মঙ্গলবার (৩১) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহানা বেগম উপজেলার ইসুবপুর ইউনিয়নের চকচান্দিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার (২ জুন) অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ রেজা।

স্থানীয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের টয়লেটে অনেক শিক্ষার্থী প্রস্রাবের জন্য অপেক্ষা করছিল। টয়লেটে ভিড় দেখে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্র স্কুলের ছাদে উঠে প্রস্রাব করে। সহকারী শিক্ষিকা শাহানা বেগম বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি ওই ছাত্রকে ডেকে নিয়ে কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে একটি প্লাস্টিকের বোতল হাতে দিয়ে প্রস্রাব করে পান করতে বলেন। পরে সেই প্রস্রাব পান করতে বাধ্য করেন। ভয়ে ওই শিশু শিক্ষার্থী কিছু প্রস্রাব পানও করে।

এ ঘটনা প্রকাশ পেলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে স্কুলে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি জানার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল আলম লাকী, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবু ইউসুফ বদিউজ্জামান বকুল ঘটনাস্থলে যান। তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা ওই শিক্ষিকাকে ছেড়ে দেন।

ওই স্কুলছাত্র বলে, ‘ছাদে প্রস্রাব করায় ম্যাম আমাকে মারধর করেন। একটি প্লাস্টিকের বোতল হাতে দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের প্রস্রাব পান করতে বলেন। ভয়ে বোতলের কিছু প্রস্রাব পানও করি। পরে বাড়ি গিয়ে বাবা-মাকে বিষয়টি জানাই।’

স্কুলছাত্রের মা সাবিনা আক্তার বলেন, ‘ছেলে অপরাধ করে থাকলে আমরা তাকে শাসন করতাম। কিন্তু ছেলেকে জোর করে প্রস্রাব খাওয়ানো হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা শাহানা বেগম বলেন, ‘ওই ছেলে ছাদে প্রস্রাব করায় তাকে একটু শাসন করেছি। তবে বোতলে তাকে নিজে প্রস্রাব করে খেতে বলিনি। তবে সে ভয়ে একটু প্রস্রাব খেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সে যে প্রস্রাব খেয়ে ফেলবে তা বুঝতে পারিনি। যখন বোতল থেকে প্রস্রাব খাচ্ছিল তখন বলেছি, ‘যাও, আর প্রস্রাব খেতে হবে না, ক্লাসে যাও।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরশাদ আলী বলেন, ঘটনার সময় আমি বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলাম। পরে ঘটনাটি জানতে পারি। বুধ (১ জুন) ও বৃহস্পতিবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করেছেন। ঘটনার সত্যতাও পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন ঘটনা কখনো আশা করা যায় না। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। যেহেতু তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে, তাই এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’

ধামইরহাট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে দুদিন তদন্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তদন্তে আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে; যা একজন শিক্ষককে বরখাস্ত করার জন্য যথেষ্ট।’

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ রেজা বলেন, ‘ধামইরহাটে চকচান্দিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে প্রস্রাব পান করানো বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি স্থানীয় উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে তিনি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আমরা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি।’

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :