নওগাঁয় গৃহবধূকে হত্যা, ধান ক্ষেত থেকে মৃতদেহ উদ্ধার

নওগাঁয় গৃহবধূকে হত্যা, ধান ক্ষেত থেকে মৃতদেহ উদ্ধার

রাজশাহী

স্টাফ রির্পোটারঃ

নওগাঁয় ধানের ক্ষেত থেকে নাছিমা বেগম (৩৬) নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার। হত্যার পর মৃতদেহ ধানের ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারনা করছেন নিহতের স্বজন সহ গ্রামের লোকজন । মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে প্রথমে স্থানিয় নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই জিয়াউর রহমান জিয়া ঘটনাস্থলে পৌছার পর ঘটনাটি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানালে, খবর পেয়ে নওগাঁ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) একে এম মামুন চিশতি, মহাদেবপুর সার্কেল মাইনুল ইসলাম, মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবি আই এর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এরপর প্রাথমিক সুরতহাল রির্পোট অন্তে শনিবার দুপুরে মৃতদেহটি উদ্ধার পূর্বক নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে ময়না তদন্ত’র পর সন্ধারদিকে স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করেন পুলিশ। মৃতদেহটি উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। নিহত নাছিমা বেগম কৃষ্ণপুর গ্রামের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কছিম উদ্দিন মন্ডল ওরফে ভাদু’র স্ত্রী।

নিহত নাছিমা বেগমের বড় বোন বিলকিচ বানু সহ স্থানীয়রা জানান, নাছিমা বেগম ছেলে ও মেয়ে দু সন্তানের জননী। তার স্বামীর মতোই ছেলে নাহিদ ইসলাম নাফিত (১৮) ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তবে মেয়ে উম্মে কুলছুম (১২) স্বাভাবিক।নাছিমা বেগমের মৃত্যু নিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে ঘটনাটি অনুসন্ধানে রবিবার বিকালে প্রতিবেদক সরজমিনে কৃষ্ণপুর গ্রামে গেলে এ সময় নিহত গৃহবধূর বাবা সহ বড় বোন বিলকিচ বানু, (স্বামীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী) নুরুল নাহার সহ গ্রামের আরো কিছু লোকজন জানান, নাছিমা বেগমকে প্রথমে হত্যা করা হয়েছে পুকুর পাড়ের একটি ইউক্যালের্টস গাছের বাগানে এবং পড়ে মৃতদেহটি টেনেনিয়ে ধান কেটে নিয়ে যাওয়া একটি জমিতে ফেলে রাখা হয়েছে দাবি করে প্রতিবেদক সাথেনিয়ে  ইউক্যালের্টস এর বাগানে নিয়েগিয়ে জানান ও দেখান, এখান থেকেই নিহত নাছিমা বেগমের পায়ের জুতো উদ্ধার করেন পুলিশ, এছাড়াও ধস্তাধস্তি করার কারনে বাগানের উক্ত স্থানে থাকা ছোট তাল গাছের চারা সহ জঙ্গলী গাছগুলোও ভেঙ্গে নষ্ট হয়েছে, এতেই স্পষ্ট যে নাছিমাকে এ-বাগানে হত্যার পর তার মৃতদেহটি টেনেনিয়ে পার্শ্বের জমিতে খেলে রাখেন অঙ্গাত দূর্বৃত্ত- হত্যাকারীরা। ঘটনাস্থলটি চারিদিক থেকে বাঁশের বেড়াদিয়ে ঘিড়ে রাখেন প্রশাসন জানিয়ে তারা আরো বলেন, এখন পর্যন্ত নিহত নাছিমা বেগমের পড়নের ওড়না নিখোঁজ রয়েছে।

নিহতের বড় বোন বিলকিচ বানু অভিযোগ করে আরো জানান, আমার বোনের মৃতদেহের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিন্হ রয়েছে, হাত ও পায়ে আচড়ের এবং বুকে ও পাজড়ে বড় আঘাতের চিন্হ সহ স্বাসরোধ করায় গলায় কালো দাগ সহ মুখ-মন্ডলে ও আঘাতের চিন্হ রয়েছে, এছাড়া নাক মুখ ও কানদিয়ে রক্তও বের হয়েছে জানিয়ে তিনি জানান, হত্যাকারীরা আমার বোনকে বাগানের ভেতর আঘাত ও স্বাসরোধকরে হত্যা করার পর পার্শ্বের জমিতে মৃতদেহটি রেখে গেছেন।নিহতের মেয়ে উম্মে কুলছুম (১২) প্রতিবেদককে জানান, আমাদের গ্রামের মেম্বার এর স্ত্রী রোকেয়া বেগম, বিউটি বেগম ও জোস্না বেগম ও আমার মা সহ গ্রামের আরো কয়েকজন নারীরা গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৬১) এর বাড়িতে সহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ইসলামী তালিম করতেন। এমনকি মাঝে মাঝে আমাকেও সঙ্গে নিতেন মা।

ঘটনারদিন শুক্রবার (ঈদের দিনগত)  সন্ধ্যায় মাকে বাড়িতে মাগরিব নামাজ পড়তে দেখি, কিন্তু রাত আনুমানিক সারে ৮ টারদিকে মাকে বাড়িতে না পেয়ে ও বাড়ির মূল দরজা খোলা দেখে আমি আমার বড় ভাইকে সাথে নিয়ে রাতেই ( মা যে বাড়ি গুলোতে তালিম করতেন) সে সব বাড়িতে খোঁজনিয়েও মাকে না পেয়ে অবশেষে বাড়িতে ফিরে এসেছি।

পরেদিন শনিবার সকালে বাড়ির পেছনে মাত্র দেরশত ফিট ব্যবধানে ধানের জমিতে মাকে পড়ে থাততে দেখতে পেয়ে আমাদেরকে জানান গ্রামের এক বয়স্ক লোক, সাথে সাথে আমরা সহ প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থল ( জমি) থেকে মাকে তুলে বাড়িতে এনে মৃত ও ক্ষত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।গ্রামের লোকজন পরবর্তীতে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর এক পর্যায়ে বাগানের ভেতর নিহতের জুতা পাওয়া সহ বাগানের ঐ স্থানে থাকা ছোট গাছগুলো ধস্তাধস্তিতে নষ্ট (ভেঙ্গে) যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পাওযার পরই নাছিমা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পর টেনে মৃতদেহটি পার্শ্বের জমিতে ফেলে রেখে গেছেন দূর্বৃত্তরা বলে প্রকাশ পায়।

নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স সহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছার পর গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ার কারনে ঘটনাটি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয় এবং খবর পাওযার পরই নওগাঁ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) একেএম মামুন চিশতি, মহাদেবপুর সার্কেল ময়নুল ইসলাম, মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবি আই এর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এরপর মহিলা পুলিশ দিয়ে মৃতদেহর প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি পূর্বক মৃতদেহটি উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।গৃহবধূ নাছিমা বেগমকে স্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে এমনটাই ধারনা করা হচ্ছে জানিয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ প্রতিবেদককে জানান, এব্যাপারে নিহতের ভাই জায়দুল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই হত্যাকান্ডে জড়ীতদের আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন ছাড় পাবে না বলেও জানিয়েছেন ওসি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :