নম্র ভাষায় কথা বলা ও বিনয়ী আচরণের পুরস্কার

নম্র ভাষায় কথা বলা ও বিনয়ী আচরণের পুরস্কার

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

সমাজে এমন কিছু বিশেষ গুণের অধিকারী মানুষ আছেন, যাদের জন্য জাহান্নাম হারাম এবং জাহান্নামের জন্য ওই ব্যক্তি হারাম। পরকালে এ প্রতিদান পাওয়ার জন্য ছোট্ট ৩টি গুণই যথেষ্ট। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য তা তুলে ধরেছেন। সেই গুণ ৩টি কী?

দুনিয়াতে পুরস্কারের খবর সবার জন্যই আনন্দদায়ক। আবার পরকালের সুবিধা-প্রতিদান বা সুখবরও মানুষের জন্য অনেক বেশি আনন্দের। আর এ সুখবর যদি আসে বিশ্বনবির পবিত্র জবান থেকে; তবে মুমিন মুসলমানের খুশি বা আনন্দ কেমন হতে পারে! সত্যিই অসাধারণ। যার কোনো তুলনা হয় না।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে জাহান্নাম হারাম হওয়া ব্যক্তির ৩টি গুণ তুলে ধরেছেন। জাহান্নাম হারামের বিষয়টি বর্ণনায়ও রয়েছে অন্যরকম খুশির সংবাদ। তাহলো-
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের সবাইকে জানিয়ে দেব না, কোন ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম এবং জাহান্নামের জন্য কোন ব্যক্তি হারাম?
(ওই ব্যক্তি হলো ৩টি গুণের অধিকারী) যে ব্যক্তি-
১. মানুষের কাছাকাছি (কর্মগুণে মানুষের কাছে জনপ্রিয়) হওয়া ।
২. সহজ-সরল, নম্রভাষী (সুন্দর ও উত্তম ভাষায় কথা বলা) ও
৩. সদাচারী (আচরণে বিনয়ী হওয়া)।’ (তিরমিজি)

হাদিসে উল্লেখিত বিষয় ৩টি পালনে খুবই সহজ। মানুষ আপন হোক কি পর হোক সবার সঙ্গে এমন আচরণ করা। যার ফলে মানুষ কোনোভাবেই তাকে পর মনে করবে না।

কথা বলার ক্ষেত্রে হতে হবে একেবারে নরম ও সহজ সরল। যেভাবে কথা বলতে কুরআনের একাধিক আয়াতে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَقُولُواْ لِلنَّاسِ حُسْناً
‘মানুষের সঙ্গে (নরম ভাষায়) উত্তম কথাবার্তা বলবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৮৩)

মনে রাখতে হবে
প্রতিটি মানুষের শরীরের হাড়বিহীন অঙ্গ জিহ্বার মাধ্যমে নরম নরম কথা বলা এবং ভাববিনিময়ের মাঝেই রয়েছে জাহান্নামকে হারাম করে নেওয়ার রসদ বা উপাদান। এটি মুমিন মুসলমানের জন্য অনেক উপকারি আমল।

সুতরাং মুমিন মুসলমানসহ সব মানুষের উচিত, দুনিয়া শান্তি প্রতিষ্ঠায় ও পরকালীন জীবনের কল্যাণ কামনায় নিজেকে অন্যের কাছে কথা ও কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা। অন্যের সঙ্গে নরম ভাষায় কথা বলা এবং আচরণে বিনয়ী হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।

বিশেষ করে আল্লাহর কাছে উত্তম আচরণ ও বিনয়ী হওয়ার জন্য বেশি বেশি এ দোয়াগুলো করা-
১. اللَّهُمَّ اهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَعْمَالِ وَأَحْسَنِ الأَخْلاقِ ، فَإِنَّهُ لا يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلا أَنْتَ ، وَقِنِي سَيِّءَ الأَعْمَالِ وَسَيِّءَ الأَخْلاقِ ، فَإِنَّهُ لا يَقِي سَيِّئَهَا إِلا أَنْتَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাহদিনি লিআহসানিল আমালি ওয়া আহসানিল আখলাকি; ফাইন্নাহু লা ইয়াহুদি লিআহসানিহা ইল্লা আংতা; ওয়া ক্বিনিল আমালি ওয়াইয়্যিয়িল আখলাকি; ফাইন্নাহু লা ইয়াক্বি সাইয়্যিআহা ইল্লা আংতা।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে সর্বোত্তম কাজ ও উন্নত চরিত্রের পথ দেখাও। কেননা, তুমি ছাড়া এ পথের সন্ধান অন্য কেউ দিতে পারে না। আর অন্যায় কাজ ও খারাপ চরিত্র থেকে আমাকে রক্ষা কর। কেননা, তুমি ছাড়া অন্য কেউ এ থেকে রক্ষা করতে পারে না।’ (নাসাঈ)

২. اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ، وَالْأَعْمَالِ، وَالْأَهْوَاءِ والْأَدْوَاءِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাকি ওয়াল আমালি ওয়াল আহওয়ায়ি ওয়াল আদওয়ায়ি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ, কু-প্রবৃত্তি এবং দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

৩. اللَّهُمَّ كَمَا حَسَّنْتَ خَلْقِي فَأَحْسِنْ خُلُقِي
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা কামা হাসসানতা খালকি ফা-আহসিন খুলুকি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার দেহের অবয়ব যেমন সুন্দর করেছ তেমনি আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দাও।’ (মুসনাদে আহমাদ)

৪. اللَّهُمَّ مَنْ وَلِىَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِى شَيْئًا فَشَقَّ عَلَيْهِمْ فَاشْقُقْ عَلَيْهِ وَمَنْ وَلِىَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِى شَيْئًا فَرَفَقَ بِهِمْ فَارْفُقْ بِهِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা মান ওয়ালিয়া মিন আমরি উম্মাতি শাইআন ফাশাক্কা আলাইহিম ফাশকুক আলাইহি ওয়া মান ওয়ালিয়া মিন আমরি উম্মাতি শায়আন ফারিফাকাবিহিম ফারফুকবিহি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! কেউ আমার উম্মতের কোনো বিষয়ে দায়িত্বশীল হয়ে যদি তাদের সঙ্গে কঠিন আচরণ করে তবে তুমিও তার সঙ্গে কঠিন আচরণ কর । আর কেউ কোনো বিষয়ে দায়িত্বশীল হয়ে যদি তাদের সঙ্গে নম্রতা সুলভ আচরণ করে তবে তার প্রতি তুমিও দয়াশীল হও।’ (মুসলিম)

৫. اللَّهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِنَا، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আল্লিফ বায়না কুলুবিনা ওয়া আসলিহ জাতা বাইনানা।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের সব হৃদয়ের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক তৈরি করে দাও আর আমাদের (বিবদমান বিষয়গুলো) সমাধান করে দাও।’ (বুখারি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে বর্ণিত ৩টি গুণে রঙিয়ে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করে নিজেদের জন্য জাহান্নামকে হারাম করে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। নম্র ভাষায় কথা বলা, বিনয়ী ও উত্তম আচরণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :