নারীর তুলনায় পুরুষের আত্মহত্যার প্রবণতা ৪ গুণ

নারীর তুলনায় পুরুষের আত্মহত্যার প্রবণতা ৪ গুণ

জীবনযাপন

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১৪ জন আত্মহত্যায় মারা যান। বিশ্বে আত্মহত্যা প্রবণতা নারীদের তুলনায় পুরুষদের প্রায় ৪ গুণ বেশি। বয়স্ক ও দীর্ঘদিনের জটিল রোগীদের মধ্যে এমন প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকে। এছাড়া বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিতদের আত্মহণনের পথ বেছে নেয়ার পরিমাণ অনেক বেশি।

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের অলোচনায় মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগের রেজিস্ট্রার, মনোরোগ বিমেষজ্ঞ ডা. রাইসুল ইসলাম পরাগ।তিনি বলেন, পৃথিবীতে প্রতিবছর দশ লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যা প্রবণতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দশম। বাংলাদেশে প্রতি বছর কমপক্ষে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে।গত একযুগে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০১৯-২০ কোভিড সময়ে বাংলাদেশে আত্মহত্যা করছে ১৪ হাজার ৪শ’ ৩৬ জন। যাদের মধ্যে ২০-৩৫ বয়সের লোকই বেশি। বর্তমানে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের আত্মহত্যার পরিমাণ ৩ গুণ।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, যশোরে আত্মহত্যা প্রবণতা সবচে বেশি।আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান আত্মহত্যা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, হতাশা, গ্লানি, ব্যর্থতা কিংবা তীব্র অপমানের কারণে মানুষের মনে জন্ম নেয় অভিমান।

এমন পরিস্থিতিতে একসময় নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে থাকে কেউ কেউ। বেঁচে থাকার উৎসাহ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। চরম হতাশায় থাকা ব্যক্তির প্রতি আমাদের দায়িত্ব আছে। অনেক সময় আমাদের একটু প্রচেষ্টাই একটি প্রাণকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে নতুন জীবন উপহার দিতে পারে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই মানুষকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে আত্মহত্যা প্রবণতা থেকে দূরে রাখা যায়। তবে আত্মহত্যার কোন একক কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।আত্মহত্যার কারণ ও প্রতিরোধে বিভিন্ন করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন মাদকবিরোধী আন্দোলনকারী সংস্থা মানসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফেলো অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী। তারা বলেন, মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং সহমর্মিতা নিয়ে সহায়তার হাত বাড়াতে হবে।

কাউকে বিষন্নতায় বা দুর্দিনে একা করে রাখা যাবেনা।তারা বলেন, আত্মহত্যার পূর্বে মানুষরা যেসব মন্তব্য করে সেগুলো হলো-
‘আমার আর বেঁচে থাকার ইচ্ছা নেই। নিজেকে  শূন্য মনে হয়। মৃত্যুই একমাত্র মুক্তির পথ বা এমন জীবননাশী কথা।

’আলোচকবৃন্দ বলেন, পারিবারিক নির্যাতন, কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পরীক্ষা ও প্রেমে ব্যর্থতা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, প্রাত্যহিক জীবনের অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয়, মাদক ইত্যাদি কারণে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।আলোচকবৃন্দ আরও বলেন, আত্মহত্যা রোধে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া দেশে পর্যাপ্ত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের অভাবের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন আলোচকরা। তারা বলেন, প্রয়োজনে কর্মশালার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী কাউন্সিল তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।এ বছর আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কাজের মাঝে জাগাই আশা। বিশ্বব্যাপি আত্মঘাতী আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা এবং জীবনের মূলধারার সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করার লক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড -আইএএসপি এর উদ্যোগে ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হয়ে থাকে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :