পর্দা শুধু নারীর জন্য ফরজ নয়

পর্দা শুধু নারীর জন্য ফরজ নয়

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

বর্তমান পৃথিবীর অতি পরিচিত এক ভয়ংকর শব্দ ধর্ষণ। এ শব্দ শোনা মাত্রই চোখের পাতায় ভেসে ওঠে একটি নিষ্পাপ আত্মার রোদনচিত্র। বিষাদে ছেয়ে যাওয়া একটি পরিবার, একটি পৃথিবী। যে পৃথিবীর আলো বিষাক্ত, বাতাস বিষাক্ত। বিষে বিষে নীল হয়ে ওঠে ধর্ষিতার দুই চোখ। পৃথিবীতে এমন কোনো ভূখ- নেই যেখানে ধর্ষণের মতো নিন্দনীয় ঘটনা ঘটছে না। দিন দিন এ ঘটনা বেড়েই চলেছে।

নারীরা আবারও সেই অন্ধকার যুগের মতো নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি নিজের ঘরেও নারীর নিরাপত্তা নেই। পুুরুষ নামধারী অমানুষগুলো এতটাই নিচে নেমে এসেছে যে চার বছরের শিশুরাও তাদের নাপাক হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। কখনো কি ভেবে দেখেছেন এ অবক্ষয়ের পেছনের কারণটা কী?

সভ্যতার এ অপমৃত্যুর পেছনে অনেক কারণ আছে। এই যেমন তাকওয়াহীনতা, পারিবারিক সুশিক্ষার অভাব, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, প্রগতির নামে বেহায়াপনা, প্রযুক্তির অপব্যবহার সর্বোপরি ইসলামের ব্যবস্থাপনা না অনুসরণ করার কারণেই সমাজে ধর্ষণপ্রবণতা বেড়ে গেছে। ইসলামের একটি শাশ্বত বিধান হলো পর্দাপুশিদা। যা নারী পুরুষ সবার জন্যই আবশ্যকীয়।

কিন্তু আফসোসের বিষয়, আমরা পুরুষেরা পর্দার বিষয়টি শুধু নারীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা বেপর্দা হয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াই আর বলি, ধর্ষণের জন্য নারীর বেপর্দাই দায়ী। যদি তাই হতো তাহলে চার বছরের শিশুটি কেন ধর্ষিত হলো? আসলে ধর্ষণের পেছনের মূল কারণ  ইসলামের বিধান না মানা।

এ বিধান যেমন নারীরা মানছে না তেমন মানছে না পুরুষেরাও। পর্দা শুধু নারীর জন্যই ফরজ নয় সমানভাবে পুরুষের জন্যও ফরজ। বরং আল কোরআনে পর্দা পালনের জন্য আগে পুরুষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে রসুল! আপনি মুমিনদের বলুন তারা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটিই তাদের জন্য পবিত্র ব্যবস্থা।

তারা যা করে আল্লাহ সে বিষয়ে ভালোভাবেই অবগত আছেন।’ সুরা নুর আয়াত ৩০। হাদিসে এসেছে, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান ও দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান হেফাজত করবে আমি নিজে তার জান্নাতের জিম্মাদারি নেব।’ বুখারি।লক্ষ্য করুন, এ আয়াত ও হাদিসে যা বলা হয়েছে তা নারী-পুরুষ দুজনকেই বলা হয়েছে।

তাহলে বেপর্দার জন্য শুধু নারীকেই কেন দোষারোপ করা হবে? কেন নারীকে একা পেলেই পুরুষ নামধারী অমানুষগুলো হামলে পড়ে? ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে তাদের পবিত্র ভূষণ। অথচ আল্লাহ কঠোরভাবে নিষেধ করে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের হাতগুলো ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।’ সুরা বাকারা আয়াত ১৯৫।

সুতরাং ধর্ষণপ্রবণতায় নারীর বেপর্দার দিকে আঙ্গুল তুললেই পুরুষের দোষ ঢেকে যাবে না। ধর্ষণপ্রবণতায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও অপব্যবহারের কারণে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধগুলো বেড়েই চলেছে।

দেশে পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আইন তৈরি হলেও কোড অব কন্ডাক্ট, ইন্টারনেট কারা ব্যবহার করবে এবং এর নজরদারি বিষয়গুলো সঠিকভাবে না মানার কারণেই এ অভিশাপ দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

ধর্ষণের মতো অপরাধ সংঘটনের পেছনে যেমন পরিবারের দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে তেমন দায় আছে রাষ্ট্রেরও। সমাজ থেকে ধর্ষণের মতো অপকর্ম ইসলাম যে বিধান দিয়েছে তা দিয়েই প্রতিরোধ সম্ভব।

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাস্সির সোসাইটি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :