পাবনায় উন্নয়ন কাজে ঘুষ দাবি, প্রতিবাদের মুখে পালালেন শিক্ষা কর্মকর্তা

পাবনায় উন্নয়ন কাজে ঘুষ দাবি, প্রতিবাদের মুখে পালালেন শিক্ষা কর্মকর্তা

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের ৩০ শতাংশ ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে পাবনার বেড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৩ জুন) দুপুরে শিক্ষকরা ওই কর্মকর্তার বিচার ও অপসারণ দাবিতে তার অফিস ঘেরাও করতে গেলে তিনি অফিস থেকে পালিয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেড়া উপজেলার কয়েকজন প্রাথমিক শিক্ষক জানান, ২০১১ সালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামকে বেড়া উপজেলা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙিতে শাস্তিমূলক বদলি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। সে সময় তিনি বেড়ার তৎকালীন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে তার অফিসে গিয়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। গত এক দশকে অধিদফতর তাকে বেশ কয়েকবার শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। সবশেষ তাকে গাইবান্ধার সদর উপজেলা থেকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। পরে তিনি তদবির করে তার আগের কর্মস্থল বেড়াতে পোস্টিং করিয়ে নেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বেড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম এবারো বেড়া উপজেলায় এসেই শিক্ষকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে তটস্থ করে রেখেছেন। তিনি এবার এসেই ঘোষণা দেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের সরকারি বরাদ্দকৃত টাকার ৩০ শতাংশ তাকে দিতে হবে। বাদ বাকি টাকার কাজ শিক্ষকরা না করলেও তিনি দেখতে যাবেন না। শিক্ষকরা তার এ অনৈতিক দাবির প্রতিবাদ করেন। এজন্য কয়েকজন শিক্ষককে তিনি অশ্লীল ভাষায় (প্রকাশের অযোগ্য) বকাঝকা করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম স্পষ্টভাবে প্রধান শিক্ষকদের বলে দিয়েছেন, আপনারা স্লিপের টাকা বা স্কুল সংস্কারের টাকা নিয়ে হজম করলেও আমি দেখতে যাব না। শুধু আমাকে শতকরা ৩০ ভাগ টাকা নগদে প্রদান করে ব্যাংকের চেক নেবেন। টাকা ছাড়া কোন চেক ছাড় পাবেন না।’

কয়েকজন শিক্ষক জানান, বেড়া উপজেলার ১১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্লিপের টাকা, ওয়াশ ব্লক, বিদ্যালয়ের রুটিন মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের শতকরা ৩০ ভাগ করে দাবি করছেন শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম। তিনি বলেছেন, তার কাছে নগদ টাকা উৎকোচ দিয়ে তারপর বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করা টাকা দেয়া হবে। যিনি টাকা দেবেন না তার বিরুদ্ধে নানারকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুমকি দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, তারা এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে গালমন্দের শিকার হয়েছেন।

এসব কারণে বুধবার দুপুরে তার অপসারণ দাবিতে তার কার্যালয় ঘেরাও করতে যান শিক্ষকরা। অবস্থা বেগতিক দেখে শিক্ষা কর্মকর্তা অফিসের অন্য দিক দিয়ে পালিয়ে যান। পরে শিক্ষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গিয়ে তাদের হয়রানির কথা জানান। ইউএনও এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সবুর আলী জানান, কয়েকজন শিক্ষক তাকে মৌখিকভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতি ও হুমকির বিষয়ে জানিয়েছেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু বলেন, বেড়া থেকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি হয়ে যাওয়া কর্মকর্তার আবার এখানে আসাই তো অসৎ উদ্দেশ্যের প্রথম প্রমাণ। তার কাছেও শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বুধবার সন্ধ্যায় শাস্তিমূলক বদলি হয়ে বেড়া উপজেলা থেকে যাওয়া এবং আবার শাস্তিমূলক বদলিতে ফিরে আসার কথা জাগো নিউজের কাছে স্বীকার করেন। তিনি তার চাকরিজীবনে আরও কয়েকবার শাস্তিমূলক বদলি হয়েছেন তাও স্বীকার করেন। তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :