পারস্পরিক সুসম্পর্ক রক্ষায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ

পারস্পরিক সুসম্পর্ক রক্ষায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

পারস্পরিক সুসম্পর্ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সুসম্পর্কে ফাটল ধরে এমন কোনো কাজকে ইসলাম সমর্থন করে না। এমনকি কেউ যেন কারো সঙ্গে ৩ দিনের বেশি কথাবার্তা বলা থেকে বিরত না থাকে সে ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির কথা বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। পারস্পরিক সুসম্পর্ক রক্ষায় ৪টি কাজ কখনো করা যাবে না। সেই কাজগুলো কী?

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
১. ‘তোমরা একজন অন্যজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করো না;
২. একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করো না;
৩. পরস্পরের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বিদ্বেষ পোষণ করো না;
৪. এক অপরকে হিংসা করো না।
বরং তোমরা আল্লাহর বান্দাহ; পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও। কোনো মুসলিমের জন্যই এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সঙ্গে তিনদিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখবে।’ (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি)

এ হাদিসের মূল কথা হলো- কোনোভাবেই এক অপরের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট না করা। তবে যদি কেউ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কারো সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট করতে হয়; সেটি ভিন্ন কথা। এমনিতে কোনো মুসলিম অপর কোনো মুসলিমের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারবে না। যদি কেউ এমনটি করে তা গুনাহের কাজ, জাহান্নামের যাওয়ার কারণ এবং হত্যার সমতুল্য।

হাদিসের একাধিক বিশুদ্ধ বর্ণনায় অনেক প্রসিদ্ধ সাহাবি পরস্পরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ সম্পর্কে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। সুসম্পর্ক নষ্টের ক্ষতির বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন এভাবে-
১. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা উচিৎ নয়। এরপর সে তার দেখা পেয়ে তাকে তিনবার সালাম দিলে সে যদি একবারও উত্তর না দেয় তবে সে তার গুনাহসহ ফিরে আসলো।’ (আবু দাউদ)

২. হজরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের জন্য তার অপর ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনদিনের বেশি থাকা বৈধ নয়। এরপর সে ব্যক্তি তিনদিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখা অবস্থায় মারা গেলো, সে জাহান্নামে প্রবেশ করলো।’ (মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ)

৩. হজরত আবু খিরাশ আস-সুলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন- যে তার ভাইয়ের সঙ্গে একবছর সম্পর্ক ছিন্ন রাখলো; সে যেন তাকে হত্যা করলো।’ (আদাবুল মুফরাদ, মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ)

৪. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়। এরপর ঐ দিনই আল্লাহর সঙ্গে শিরককারী ও দুই ভাইয়ে শত্রুতা পোষণকারীরা ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করা হয়। বলা হয়, তোমরা এ দুই জনকে শত্রুতা ত্যাগ করার সুযোগ দাও।

ইমাম আবু দাউদ রাহমাতু্লাহি আলাইহি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বিশেষ কারণে) চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাঁর কোনো এক স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। আবার হজরত ইবনু ওমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আমৃত্যু তার এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কছিন্ন অবস্থায় ছিলেন। (এ ব্যাপারে) ইমাম আবু দাউদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘সম্পর্কচ্ছেদ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকলে তাতে গুনাহ নেই। ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি আলাইহ এক ব্যক্তি থেকে তার চেহারা আঁড়াল করে রেখেছেন।’ (আদাবুল মুফরাদ, মুসলিম, তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, একে অপরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কারণে পরস্পরের প্রতি সুসম্পর্ক ছিন্ন করা একাধারে গুনাহের কাজ, জাহান্নামে যাওয়ার কারণ এবং হত্যাযোগ্য অপরাধ। তাই কারো সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করে পরস্পরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ইসলামের সুমহান সৌন্দর্য তুলে ধরা এবং হাদিসের ওপর আমল করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরস্পরের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা, শত্রুতা পোষণ করা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং হিংসা করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :