পেগাসাস স্পাইওয়্যার কে তৈরি করেছিলেন?

পেগাসাস স্পাইওয়্যার কে তৈরি করেছিলেন?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিজ্ঞাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ

ইসরায়েলের তৈরি একটি সফটওয়ার দিয়ে বিভিন্ন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, অধিকার কর্মী এবং আরও অনেকের ওপর গোপন নজরদারি নিয়ে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে বিশ্বব্যাপী তোলাপাড় চলছে।

বিশ্বের ১৭টি প্রথম সারির মিডিয়া, সাংবাদিকতা বিষয়ক প্যারিস-ভিত্তি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ফরবিডেন স্টোরিজ‘ এবং সেইসাথে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের পুরোটা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।২০১৯ সালে গোপন নজরদারির অভিযোগে পেগাসাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির নতুন বিনিয়োগকারীরা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোকে আশ্বস্ত করতে উঠেপড়ে লাগে।

এক খোলা চিঠিতে তারা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে জানায়, এনএসও’র কার্যক্রম শুধুই সন্ত্রাসবিরোধী ও জঙ্গিবাদের মতো গুরুতর বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে তা ধোপে টিকেনি।স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে কত সালে তৈরি হয়েছিল পেগাসাস স্পাইওয়ার? কী ভাবে পেগ্যাসাস সারা বিশ্বের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ফোনে চরবৃত্তি করার অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠল?শ্যালেভ হুলিও ও ওমরি লাভি নামের দুই বন্ধু মিডিয়া অ্যান্ড (MediaAnd) নামে একটি স্টার্ট-আপ শুরু করেন ২০০০ সালে।

২০০৮ সালের আর্থিক মন্দায় এই সংস্থা প্রায় বন্ধ হতে চলেছিল। কিন্তু ২০০৭ সালে আইফোন লঞ্চ হওয়ার পরে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পান শ্যালেভ হুলিও ও ওমরি লাভি।ইসরায়েলের হারজিলিয়া শহরে যাত্রা শুরু করা এনএসও গ্রুপ স্বল্প সময়েই বহুদূর পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে। তিন বন্ধু নিভ কারমি, শালেভ হুলিও এবং ওমরি লাভিয়ে মিলে এনএসও প্রতিষ্ঠা করেন। তিনজনের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে এনএসও নামের উদ্ভব। ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করা এনএসও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে নজরদারি সফটওয়্যার বিতরণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

এতদিন পর্যন্ত টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনও কল অথবা মেসেজ আদান প্রদানের সময় ফোনে আড়ি পাতার কাজটি অত্যন্ত সন্তর্পণে সেরে ফেলত বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। কিন্তু এনক্রিপশন পদ্ধতি চালু হওয়ার কারণে তা সম্ভব হচ্ছিল না। যে কোনও মেসেজ ডিক্রিপ্ট করার জন্য প্রয়োজন বিশেষ কি, যা শুধুমাত্র প্রেরক ও প্রাপকের ফোনেই থাকে।এই স্পাইওয়্যার ফোনে প্রবেশ করলে একদিকে যেমন ব্যবহারকারী তা বুঝতে পারবেন না, একই ভাবে এই ফোনে এই স্পাইওয়্যারের উপস্থিতি টের পাবেন না সফটওয়্যার ডেভেলপাররাও।

পাশাপাশিই আবার, কোনও লিঙ্কে ক্লিক না করলেও যে কোনও ফোনে এই স্পাইওয়্যার ইনজেক্ট করা সম্ভব হবে।ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রায় যে প্রায় ৫০টি দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মোবাইল ফোনে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও‘র তৈরি পেগাসাস নামের সফটওয়ারটি ঢুকিয়ে নজরদারির বিষয়টি উঠেছে। তবে বিস্তারিত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :