প্রস্তুতি নিন প্রভুর রহমত ও ভালোবাসা কুড়ানো

প্রস্তুতি নিন প্রভুর রহমত ও ভালোবাসা কুড়ানোর

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসছে সিয়াম সাধনার মাস রমজানুল মুবারক। বান্দার ইবাদতের বসন্তকাল শুরু হচ্ছে কদিন পরই। আত্মসংযমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে মাবুদের সান্নিধ্য ও সন্তোষ অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসছে মাহে রমজান। আশা করছি এ রমজান মানুষের প্রেম-ভালোবাসা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করবে।

বিশ্ব মুসলিম প্রতি বছর এ মাসে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের নির্দেশ পালনে বিশেষভাবে সচেষ্ট হয়। আমাদেরও পুণ্যের প্যাকেজ গ্রহণের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। অকৃত্রিম বিশ্বাস আর হৃদয়ভরা ভালোবাসা নিয়ে পুরো মাস ইবাদতে ডুবে থাকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আত্মোপলব্ধি ও আত্মসমালোচনা বৃদ্ধির প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। গুনাহের পথ ছেড়ে নেকির পথ ধরার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রমজান মূলত সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মাওলার নৈকট্যলাভ করার মাস। এ বছরও হয়তো করোনা সঙ্গে নিয়েই আমাদের রোজা পালন করতে হবে। কারণ প্রভু যা করেন কেউ তা ফেরাতে পারে না আর তিনি যা আটকে দেন কেউ তা করতে পারে না। তাই দয়াময়ের কাছে ফরিয়াদ করছি তিনি যেন আমাদের ওপর থেকে এ দুর্বহ করোনার বোঝা তুলে নেন।

প্রিয় পাঠক! সিয়াম শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। কোরআন-হাদিসের পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়ত-সহকারে পানাহার ও যৌনসম্ভোগ, অশ্লীল কথা ও কর্ম থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম। (ফাতহুল বারি চতুর্থ খ-)। রমজানের সিয়াম পালন করা ইসলামের পাঁচটি মৌলিক ভিত্তির একটি।

আল্লাহর রসুল (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দ্বিতীয় বছর আল্লাহর পক্ষ থেকে সিয়াম পালনের বিধান অবতীর্ণ হয়। সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়, ‘তোমাদের ওপর রোজা আবশ্যিক বা ফরজ করা হলো যেমন তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগে যেসব উম্মত ছিল তাদের প্রতি যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’

এ আয়াত নাজিল হওয়ার পরের বছর রমজান আসার আগে আল্লাহর হাবিব (সা.) সমবেত সাহাবায়ে কিরামের উদ্দেশে এক দীর্ঘ ভাষণ দেন। এতে তিনি রমজানের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও করণীয় সম্পর্কে প্রিয় উম্মতকে অবহিত করেন। হজরত সালমান ফারসি (রা.) বর্ণনা করেন, শাবানের শেষে রসুল (সা.) আমাদের উদ্দেশে বয়ান রাখেন। বলেন, হে লোকেরা! তোমাদের ওপর এসেছে এক মহান মাস, বরকতময় মাস।

এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যলাভের চেষ্টা করবে তার জন্য থাকবে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায়ের সমান প্রতিদান। আর যে ব্যক্তি এতে একটি ফরজ পালন করবে তার জন্য থাকবে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ পালনের সমান প্রতিদান। যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তার জন্য রয়েছে পাপমোচন ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং রোজাদারের মতোই তাকে সমান প্রতিদান দেওয়া হবে।

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাস্সির সোসাইটি, পীর সাহেব, আউলিয়ানগর।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :