বগুড়ার শাজাহানপুরে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

বগুড়ার শাজাহানপুরে এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানে ৮ জন শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির (এডহক) সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী ও নিয়োগ বঞ্চিতরা।

এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির (এডহক) সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।

শনিবার দুপুরে সরেজমিন তদন্ত করতে যান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক ড. কামাল হোসেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদ।

তদন্তকালে অভিযোগের বাদী ও উক্ত প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. আলী ইমাম, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. মোতাহার হোসেন মুকুল, কলেজ শাখায় কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারিবৃন্দ, নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বাক্ষর জালিয়াতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে তদন্তকালে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা থাকায় শনিবার সকাল থেকেই কলেজ চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুলসহ ওই প্রতিষ্ঠানে ৮ জন শিক্ষক অবৈধভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। এমনকি অধ্যক্ষের স্ত্রীকেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে অবৈধভাবে।

নিয়োগবঞ্চিত কয়েক ব্যক্তির অভিযোগ, নিয়োগ দেয়ার কথা বলে অধ্যক্ষ মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন। কিন্তু নিয়োগ তো দূরের কথা টাকাগুলোও ফেরত দেয়নি।

মজনু সরকার নামে এক ব্যক্তি জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের জন্য তিনি অধ্যক্ষকে ৮ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আরো ৫ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেননি। এমনকি টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।

আব্দুল মতিন নামে এক ব্যক্তি জানান, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদের জন্য হামিম নামে এক ব্যক্তির হাত দিয়ে অগ্রীম ৬ লাখ টাকা অধ্যক্ষকে দেয়া হয়েছিল। চুক্তি হয়েছিল ১২ লাখ টাকা। কিন্তু অপর প্রার্থীর কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। টাকাও ফেরত দেয়া হয়নি। এভাবে প্রায় কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন।

উদয় কুমার রায় নামে এক শিক্ষক জানান, প্রভাষক (গণিত) পদের জন্য কলেজের উন্নয়নের স্বার্থে অধ্যক্ষকে টাকা দেয়ার পরও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির (এডহক) সভাপতি আলী ইমাম ইনোকী জানান, ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি নিযুক্ত হওয়ার পর স্কুল ও কলেজ শাখায় কর্মরত অনেক শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগ, যোগদান, সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পত্র প্রদান, বিভিন্ন শিক্ষকের পদত্যাগ ও বহিষ্কারে অস্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়। বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে অধ্যক্ষের বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতির ঘটনা বেরিয়ে আসে। এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অধ্যক্ষের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

তবে অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি করা হয়নি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক ড. কামাল হোসেন জানান, তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হবে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :