বগুড়ায় বারো ঘন্টায় ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন ও আসামী গ্রেফতার

বগুড়ায় বারো ঘন্টায় ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন ও আসামী গ্রেফতার

রাজশাহী

মোঃ ইসরাফিল হোসেনঃ

সূত্রঃ বগুড়া জেলার সোনাতলা থানার মামলা নং- ০৩/৯০, তারিখ- ০৪/০৬/২০২২ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড।

সূত্রে বর্ণিত মামলার বাদী মোঃ বেলাল হোসেন থানায় হাজির হয়ে এই মর্মে এজাহার দাখিল করেন যে, গত ৩১/০৫/২০২২ খ্রিঃ রাত্রী অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার সময় তার ছোট ভাই মোঃ রাকিব হোসেন (১৫), পিতা-মোঃ শামসুল ইসলাম শেখ, গ্রাম-হিয়াতপুর থানা-গোবিন্দগঞ্জ, জেলা-গাইবান্ধা।

নিজ বাড়ী থেকে বের হয়ে যায় এবং অনেক খোঁজ খবর করার পর ও না পেয়ে গত ০৩/০৬/২০২২ খ্রিঃ সকাল অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় সোনাতলা থানাধীন লাহিড়ীপাড়া পাথারে লাশ পাওয়া যায়। উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া জেলার সোনাতলা থানার মামলা নং-০৩/৯০, তারিখ- ০৩/০৬/২০২২ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।

অ্যাডিশনাল আইজিপি পিবিআই প্রধান জনাব বনজ কুমার মজুমদার. বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পুলিশ সুপার, পিবিআই বগুড়া জনাব মোঃ আকরামুল হোসেন এর সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্ত উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ সবুজ আলী প্রথমে ছায়া তদন্ত শুরু করেন এবং পরবর্তীতে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে মামলাটি পিবিআই বগুড়া স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে। মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করার পরপরই ঘটনার সাথে জড়িত ১৫ বছরের শিশু/বালক কে হেফাজতে গ্রহণ করে এবং তার দেওয়া তথ্য মতে অপর আসামী মোঃ আহসান হাবীব সজীব (২০), পিতা-মোঃ শফিকুল ইসলাম, গ্রাম- হিয়াতপুর, থান- গোবিন্দগঞ্জ, জেলা- গাইবান্ধাকে নিজ বাড়ীর পাশের রাস্তা থেকে গত ০৪/০৬/২০২২ খ্রিঃ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার পরবর্তী সময়ে উক্ত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ আহসান হাবীব সজীব নিজেই উক্ত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার সহ সহযোগী হিসেবে অপর ১৫ বছরের শিশু/বালকের নাম উল্লেখ করে।

ডিসিস্ট রাকিব হোসেন ও আসামী মোঃ আহসান হাবীব সজীব পূর্ব পরিচিত ও একই এলাকায় বসবাস করার কারণে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। ঘটনার দিন অর্থাৎ ৩১/০৫/২০২২ খ্রিঃ আহসান হাবীব @ সজীব ডিসিস্ট রাকিব হোসেন কে জানায় যে, সজীব একজন মেয়েকে টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য সোনাতলা থানাধীন চমরগাছা লাহিড়ীপাড়া পাথারের মাঝখানে আসতে বলেছে। তারা সময়মত সেই জায়গায় গিয়ে শারীরীক সম্পর্ক স্থাপন করবে।

পরবর্তীতে রাত্রি অনুমান ০৮.৩০ ঘটিকার সময় আহসান হাবীব সজীব ডিসিস্ট রাকিব কে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় এবং তাদের সাথে অপর সহযোগী ১৫ বছরের শিশু/বালক কে সাথে নেয়। সোনাতলা থানাধীন চমরগাছা লাহিড়ীপাড়া পাথারের জনৈক সৈয়দ জামানের আবাদী জমির মাঝখানে পৌঁছার পর ডিসিস্ট রাকিব ও আসামী আহসান হাবীব সজীব এর মধ্যে এই মর্মে তর্ক শুরু হয় যে, সবার আগে কে শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হবে; এই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলাবস্থায় রাকিবের মাধ্যমে পূর্ব থেকেই বহন করা লাঠিটি কেড়ে নিয়ে আহসান হাবীব সজীব ডিসিস্ট রাকিবের মাথায় ও ডান চোখের উপর আঘাত করে।

রাকিব লাঠির আঘাতে পড়ে গেলে আহসান হাবীব সজীব পুনরায় রাকিব হাসানের মাথায় এলোপাথাড়ী ভাবে ৩/৪ টি আঘাত করে। তখন আসামী সজীব ডিসিস্ট রাকিব কে ডাকতে থাকে কিন্তু ডিসিস্ট রাকিব সাড়া না দেওয়ায় আসামী সজীব ডিসিস্ট রাকিবের গলা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পরবর্তী সময়ে আসামী আহসান হাবীব সজীব তার সহযোগী ১৫ বছরের শিশু/বালককে নিয়ে ডিসিস্ট রাকিব হোসেনের লাশ হাত ও পা ধরে টেনে হেঁচড়ে সোনাতলা থানাধীন ফুলি বেগমের মালিকানাধীন চমরগাছা লাহিড়ীপাড়া পাথারের ক্ষেতের মাঝখানে ডোবায় ফেলে দেন এবং কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। আসামী আহসান হাবীব সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও জানায় যে, ইতিপূর্বেও সে টাকার বিনিময়ে একাধিক মেয়েদের সাথে রাতের বেলায় বিভিন্ন গ্রামের পাথারের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করত।

গ্রেফতারকৃতদেরকে গত ০৪/০৬/২০২২ খ্রিঃ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামী আহসান হাবীব সজীব ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :