বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ছয় বছরে দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার সাতশরও বেশি মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

মুনাফা দেয়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাবার কয়েক বছর পরও টাকা ফেরত পেতে ঘুরছেন অনেকে। সমাজসেবা ও সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধন আছে প্রতিষ্ঠানটির এমন দাবিরও সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

২০০৮ সালে বগুড়ার ধুনট, শেরপুর, শাজাহানপুর ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কার্যক্রম শুরু ডাইম ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।  

অর্থ জমা দিলে ৬ বছরে পাওয়া যাবে দ্বিগুণ টাকা এমন কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করতেন প্রতিষ্ঠানটির মাঠকর্মীরা। আর এই আশ্বাসে প্রতি মাসে তাদের হাতে টাকা তুলে দিতেন স্বল্প আয়ের কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু মুনাফা তো দূরের কথা, ১০-১২ বছর পেরিয়ে গেলেও জমা টাকাই ফেরত পাননি সাতশর বেশি মানুষ।       

ভূক্তভোগী গ্রাহকরা বলেন, তারা স্যুট-বুট পরে ফকিরের মত হয়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। ছয় মাস যাওয়ার পর এখন আমাদের মূল টাকাও নাই, ইন্টারেস্টও নাই। তারা এখন পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৫০/৬০ টার মত তারিখ দিয়েছে।

মাঠকর্মীরাও পড়েছেন বিপাকে, টাকা ফেরত পেতে সাধারণ মানুষ চাপ দিচ্ছেন তাদেরকেই। মাঠকর্মীরা বলেন, কোম্পানীর জন্য আমাদের মানুষের কথা, গালিগালাজ শুনতে হয়। মালিকেরও কোন খোঁজ নেই।

সমবায় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন আছে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জানান, বিভিন্ন খাতে লগ্নি করলেও ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে পারেননি। কিন্তু, দুই অধিদপ্তরের নথিপত্রে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বা অনুমোদনের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।      

ডাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী বলেন, আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি এবং করবো। আমি বেঁচে থাকলে অবশ্যই সমাধান করে যাবো।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান বলেন, আমাদের সাধারণ মানুষের একটা প্রবণতা হলো সত্য মিথ্যা যাছাই না করে লোভের বশবর্তী হয়ে এ সমস্ত প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়।

শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়া হবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আর ফেরত দেয়া হবে অর্থ এমন দাবি ভুক্তভোগীদের।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :