বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল তাঁর চারপাশ থেকেই

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল তাঁর চারপাশ থেকেই

জাতীয়

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল তাঁর চারপাশ থেকেই। যাদেরকে বুকের মধ্যে আগলে রাখতেন জাতির পিতা তারাই ছিল ক্রীড়নক। কিন্তু ব্যর্থতার মূল দায়ভার বর্তায় তার নিরাপত্তায় থাকা কর্মকর্তাদের ওপর।

প্রতিদিন সকালে গণভবনে নিজের অফিসে পৌঁছে গোয়েন্দা প্রধানদের কাছ থেকে রিপোর্ট নিতেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা সতর্ক করলেও এই গোয়েন্দাপ্রধানরা সতর্ক করেননি বঙ্গবন্ধুকে।  উল্টো দিনদিন আরও নিরাপত্তাহীন হয়েছেন জাতির পিতা। কেমন ছিলো বঙ্গবন্ধুর শেষ দিনগুলো? দেখুন বিকাশ বিশ্বাসের রিপোর্ট।

শাসনামলের সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর একটি নিত্যদিনকার রুটিন ছিল। সকাল দশটার আগেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে গণভবনে নিজের অফিসে আসতেন বঙ্গবন্ধু।

অফিসে ঢোকার পর বঙ্গবন্ধুকে প্রথমে ব্রিফিং করতেন গোয়েন্দা প্রধানরা।

৭ই আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুকে আসন্ন বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু নিজদেশের গোয়েন্দাপ্রধানদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু কোন সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন বলে শোনা যায়না।

পঁচাত্তরের ৯ই আগস্ট ছিল শনিবার । এদিন সকাল দশটায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধি ড. শ্যাম স্ট্রিট। সকাল ১১টায় তাঁর সঙ্গে দেখা করেন প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ। বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে না পারার ব্যর্থতা এড়াতে পারেন না এ দুজনও।

এদিন চালনা বন্দর শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন করতে নির্দেশ দেন বঙ্গবন্ধু। শ্রমিক,মজুরদের কোন ন্যায্য দাবি বঙ্গবন্ধুর সামনে উপস্থাপন করা হলেই তিনি সে বিষয়ে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিতেন।

সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন বাকশালের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ অন্যরা। দ্বিতীয় বিপ্লব সফল করতে তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন জাতির পিতা। এটিই ছিল বাকশাল নেতাদের প্রতি তার শেষ ভাষণ । 

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :