বাংলাদেশের জনপ্রিয় পেঁয়াজের জাত তাহেরপুরের, তাহেরপুরী পেঁয়াজ

বাংলাদেশের জনপ্রিয় পেঁয়াজের জাত তাহেরপুরের, তাহেরপুরী পেঁয়াজ

তাহেরপুর

মিজানুর রহমান বাগমারাঃ

ঐতিহাসিক তাহেরপুর প্রাচীন কাল থেকে কাঁচামাল জন্য প্রসিদ্ধ একটি বানিজ্য কেন্দ্র।ঐতিহাসিক তাহেরপুরি পেঁয়াজ এর উদভব হয় রাজশাহীর এই তাহেরপুরে। তাহেরপুরের নাম অনুসারে তাহেরপুরী পিঁয়াজ বর্তমানে সুপরিচিত সারা দেশের মানুষের কাছে। পেয়াঁজের বীজ, চারা, কাঁচা সবজি পাইকারি র জন্য বিখ্যাত তাহেরপুর হাট।

প্রাচীন কাল থেকে দুর দুর্দান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ব্যবসায়ী শুক্রবার ও সোমবার ক্রয়-বিক্রিয় জন্য ছুটে আসে তাহেরপুর হাটে। বারনই নদীর তীরে অবস্থিত তাহেরপুর হাট, নদীপথ, রাস্তা যোগে এই হাটে আসা যায়। একদিকে পেঁয়াজ রোপণ ও অন্যদিকে বাজার গুলো তে নতুন পিঁয়াজ ক্রয়-বিক্রিয় পুরো দমে চলছে।

পেঁয়াজ চাষ একটি লাভজনক ফসল। বাংলাদেশের মাটি পেঁয়াজ চাষের উপযোগী। বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের সিংহভাগের উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় পেঁয়াজের জাত তাহেরপুরী। সারা দেশে মূলত তাহেরপুরী, ঝিটকা, সলতা, ফরিদপুরী- এই চার জাতের পেঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে।

তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ খেতে অন্যান্য পেঁয়াজের তুলানায় সুস্বাদু আবহাওয়ায় দীর্ঘ দিন সংরক্ষন করা যায় বলে কৃষকদের কাছে তাহেরপুরী জাত খুবই জনপ্রিয়। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলা উৎপাদন পেঁয়াজের আবাদ , এর শত ভাগ জমিতে তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ ফলান কৃষকরা।

রাজশাহী জেলায় এবার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আবাদ বাগমারা , পুঠিয়া, পবা, তানোর , মোহনপুর,, দূর্গাপুর, চারঘাট, বাঘা উপজেলা গুলোতে পেঁয়াজ বর্তমানে রোপণ ও বাজারজাত করে চলছে কৃষকরা। আজ ১৪ জানুয়ারি রোজ শুক্রবার ভোর রাত থেকে পিঁয়াজ আমদানি দেখা গিয়েছে তাহেরপুর কলেজ মাঠে দীর্ঘ এই মাঠে সামান্য জায়গা থাকা ছিলো না সম্পন্ন পরিপূর্ণ ক্রেতা বিক্রেতা মুখরিত হয়ে ছিলো দুপুর পযন্ত।

ভোর থেকে ক্রয় বিক্রিয় শুরু হয় বিকালের প্যাকিং করে পাইকাররা ছোট বড় যানবাহন যোগে দেশে বিভিন্ন স্থানে পিঁয়াজ সরবরাহ করে থাকেন। পিয়াঁজের প্রতি মণ ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পযন্ত (মুল্য) বিক্রয় হয়েছে। পিঁয়াজ বিক্রেতা নুরশাদ বলেন, পেঁয়াজের বাজার ভালোই আছে ফলন ভালো হয়েছে। পিঁয়াজ বেচছি আবার পিঁয়াজ লাগাচ্ছি সব মিলে অনেক ভালো লাগছে। আরেকজনের কৃষক বলেন, তাহেরপুর হাটে পিঁয়াজ বিক্রির করে অনেক শান্তি লাগে বিভিন্ন জায়গায় পাইকার আসে ভালো মুল্য পাই।

এই সম্পর্কে তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কামাল আজাদ বলেন, তাহেরপুর হাট অনেক প্রাচীন হাট এই হাটে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীগন আসে ক্রয় ও বিক্রিয় করতে। বাজারজাত ঠিক রাখতে ও নিরাপত্তা জোরদার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন ও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে ।

হাটের বিভিন্ন বর্তমান স্থানে রাস্তা ঘাট মাঠ উন্নয়নের কারণে সাধারণ মানুষের আমদানি ও পরিবহন করতে সুবিধা হয়েছে। আগামীতে আরও পরিকল্পনা রয়েছে। যা বাস্তবায়ন করলে ডিজিটাল বাংলাদেশ ডিজিটাল এর একটি হবে তাহেরপুর পৌরসভা। আবহাওয়া ভাল ও সার কীটনাশকের দাম কৃষকের নাগালে থাকায় এবার পেঁয়াজের উৎপাদন অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। হেক্টর প্রতি পেঁয়াজের উৎপাদন ১৯ থেকে ২০ টন ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশে প্রচলিত অন্যান্য জাতের চেয়ে ফলন অনেক গুন বেশি। তাই এ অঞ্চলে পেঁয়াজ চাষিদের কাছে তাহেরপুরী জাত জনপ্রিয়।

কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ মতে , গ্রীস্ম ও বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষ করে চাহিদা পূরণসহ আর্থিকভাবে লাভবান হবেন কৃষকেরা। বারি ১, ২, ৩ ও তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ সারা দেশে রবি ও খরিফ মৌসুমে আবাদ করা যায়।পেঁয়াজ চাষের জন্য চাই ভাল বীজপেঁয়াজ চাষের জন্য চাই ভাল বীজ। বীজ উৎপাদনের উপযুক্ত সময় শীতকাল। ভাল ফসলের জন্য যেমন দরকার ভাল বীজ তেমনি ভাল বীজ উৎপাদনের জন্য দরকার ভাল জমি, জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কৃষক ভাইদের প্রথমে নির্বাচন করতে হবে সেচ সুবিধা সহ মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমি।

অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে জমি তৈরি করতে হবে। উত্তম রুপে চাষ মই দেওয়ার পরে পেঁয়াজের কন্দ রোপন করতে হবে। কন্দ রোপনের পর ৫ থেকে সাড়ে ৫ মাস সময় লাগে বীজ উৎপাদনে। বাংলাদেশে শুধু কন্দ থেকে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু পেঁয়াজ উৎপাদনের শীর্ষ দেশগুলো প্রকৃত বীজ থেকেও বীজ উৎপাদন করে থাকে। বীজ উৎপাদনের জন্য রোগ মুক্ত সতেজ পরিপক্ব পেঁয়াজ বাছাই করা উচিৎ। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ গ্রাম ওজনের মাতৃ পেঁয়াজ জমিতে উত্তম বলে কৃষিবিদরা মনে করেন।

হেক্টর প্রতি মাতৃ পেঁয়াজ ১ হাজার ৬ শত কেজি থেকে শুরু করে ২ হাজার কেজি মাতৃ পেঁয়াজের প্রয়োজন হয়। পেঁয়াজের বীজ ফসলে পার্পল ব্লচ নামক ছত্রাক রোগের প্রকোপ খুব বেশি হয়। পেঁয়াজের মাঠকে রোগ মুক্ত রাখতে রোপনের ২৫ থেকে ৩০ দিনের পর থেকে বীজ সংগ্রহের ২ সপ্তাহ পূর্ব পর্যন্ত ছত্রা নাশক জমিতে ১৫ দিন অন্তর অন্তর স্প্রে করতে হবে। এছাড়াও মেটাসিসটস ও ম্যালাথিওন বা এ জাতীয় ঔষধ ফুল ফোঁটা আগে জমিতে স্প্রে করলে রোগ বালাইয়ের আক্রমন কম হয়।

পরিপক্ব বীজ যথাযথ ভাবে সংগ্রহ করে সংরক্ষন করলে বীজের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পেঁয়াজ উৎপাদনের সময় কৃষকদের হাতে সময় মত বীজ সার কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে এবংএকটু যতবান হলেই খুব সহজেই আমাদের দেশের চাহিদা পূরণ করে বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় রোধ করতে পারি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :