বাগমারার জসের বিলে অবৈধ ভাবে পুকুর খননের প্রতিযোগীতা; প্রশাসনের নেই কোন তৎপরতা

বাগমারার জসের বিলে অবৈধ ভাবে পুকুর খননের প্রতিযোগীতা; প্রশাসনের নেই কোন তৎপরতা

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীর বাগমারা গোয়ালকান্দী ইউনিয়নের জসের বিলসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ভাবে চলছে পুকুর খননের প্রতিযোগীতা এতে প্রশাসনের নেই কোন তৎপরতা। জসের বিলে ছোট বড় মিলে অন্তত ৫০ টি পুকুর খনন করা হচ্ছে। আর এসব পুকুর খনন চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। এতে বিল এলাকার প্রভাবশালী কৃষকরা কিছুটা লাভবান হলেও নিঃস্ব হয়ার আশঙ্কা রয়েছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা।

ভুক্তভোগী কৃষক ও গোলালকান্দী ইউপির স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সম্প্রতি ওই বিলে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভুমিদস্যু কাউসার ও দুলাল গং, এবাদুর গং, আজাদ ও জিল্লু গং, আকরাম, জাফর সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মহল প্রায় পাঁচশ বিঘা আবাদি জমি গুলোতে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন অব্যাহত রাখলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিরব ভুমিকা পালন করে চলেছেন।

এতে কৃষি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে এবং চাষাবাদ হুমকীর মুখে পড়ছে। এই বিলে প্রায় পঞ্চাশটির অধিক এস্কেভেটর ও ড্রেজার মেশিনে বসিয়ে হরদম চলেছে খনন কাজ। সকাল থেকে চালু করা হয় ৫০টি ড্রেজার মেশিন চলে ভোর রাত পর্যন্ত।

কয়েক ঘন্টা বন্ধ রেখে আবারো শুরু করা হয় অবৈধ পুকুর খননের কাজ। এতে বর্ষা মওসুমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়বে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি অনাবাদি এবং পাড়া-মহল্লার বাড়ি-ঘরে ডুকে পানিবন্ধী হয়ে পড়ে পড়ার আশংকা করছেন তারা।

এর আগে এই অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের জন্য গোলাকান্দি ইউপি’র ইউপি সদস্য আবেদ আলী স্থানীয় প্রশাসনে আবেদন করেন । পরে এই দাবীতে এলাকার শত শত কৃষক জনতা মানববন্ধন করলেও বিষয়টির দিকে নজর দেওয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয় গ্রামবাসী।

জানা গেছে পুকুর খনন বন্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে যে, জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু অবৈধ পুকুর খননকারীরা উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফসলি জমিতে চালিয়ে যাচ্ছে হরদম পুকুর খনন। খননকারীরা বিভিন্ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদেরও ম্যানেজ করার চেষ্টা শুরু করেছেন। অনেকে ওই এলাকায় গিয়ে তাদের সাথে দফা রফায় আপোষ করছেন ।

এলাকাবাসী জানান, রামরামা গ্রামের মৃত রহম আলীর ছেলে দুলাল ও কাউছার, মৃত নিরজন বৈরাগীর পত্র নির্মল বৈরাগী, মৃত ভুষি মন্ডলের ছেলে দুলু মন্ডল, মসফিকুর প্রামানিকের ছেলে মস্তাক প্রামানিক, মৃত দুলাল ফৌজদারের ছেলে আনোয়ার ফৌজদার, আজাদ, জিল্লু, এবাদুল, লতিফসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন করে পুকুর খনন অব্যাহত রাখলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক ভাবে নিরব রয়েছে। গোয়ালকান্দি ইউপি সদস্য আবেদ আলী মোল্লা বলেন, প্রসাশনকে ম্যানেজ করে চলছে বাগমারার গোয়ালকান্দি জসের বিলের রামরামা ও সাজুড়িয়ায় অবৈধ পুকুর খনন।

এই তিন ফসলি জমি অবৈধ ভাবে পুকুর খনন কারীদের বিরুদ্ধে আমি রাজশাহী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারি (ভূমি) কমিশনার বরাবর দরখাস্ত করেছি তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

পুকুর খননকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহমেদ বলেন, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে অভিযান চলমান রয়েছে খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :