বাগমারার ১৬ ইউপিতে নৌকার মাঝি হলেন যারা

বাগমারার ১৬ ইউপিতে নৌকার মাঝি হলেন যারা

রাজশাহী

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজশাহীর বাগমারায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী ডামাডোল। গত ২৭ নভেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে মূলত আনুষ্ঠানিক ভাবে আরম্ভ হয় প্রার্থীদের কার্যক্রম। ফরম উত্তোলন থেকে দলীয় মনোনয়ন সব কিছুই যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেন।

নতুন-পুরাতন প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুরাতনদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় ১৬ ইউনিয়নের কেবল ৪টিতে নতুন মুখ এসেছে নৌকায়। এছাড়া ১২টি ইউনিয়নে রাখা হয়েছে ২০১৬ সালে যাদেরকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল।

নৌকা পেলেও গত নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বিজয়ী হতে পারেন নি দলীয় প্রার্থীরা। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। অন্যদিকে যারা নৌকার টিকিট পেয়ে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন তারা আবারও দলীয় মনোনয়ন পেলেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন বলে এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার ১ নং গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আল-মামুন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। গত নির্বাচনে তাঁকে নৌকার টিকিট প্রদান করা হলেও বিজয়ী হতে পারেননি। ২ নং নরদাশ ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যক্ষ গোলাম সাওয়ার আবুল। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে পানিয়া নরদাশ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গোলাম সারওয়ার আবুল।

৩নং দ্বীপপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ। তিনি বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ৪ নং বড়-বিহানালী ইউনিয়নে নৌকার টিকিট পেয়েছেন রেজাউল করিম রেজা। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত নির্বাচনে তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও বিজয়ী হতে পারেননি। ৫ নং আউচপাড়া ইউনিয়নে দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেলেন সরদার জান মোহাম্মদ। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। ৬ নং শ্রীপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তিন বারের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মকবুল মৃধা। গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি।

৭ নং বাসুপাড়া ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেলেন সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান। তিনি গত নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেলেও স্বতন্ত্র প্রাথীর নিকট পরাজিত হন। লুৎফর রহমান বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ৮ নং কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নে দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেলেন চেয়ারম্যান আয়েন উদ্দীন। গত নির্বাচনেও তিনি নৌকার প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন।

৯নং শুভডাঙ্গা ইউনিয়নে দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেলেন আব্দুল হাকিম প্রামানিক। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। গত নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচত হন তিনি। ১০ নং মাড়িয়া ইউনিয়নে দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় মনোয়ন পেলেন আসলাম আলী আসকান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ১১ নং গনিপুর ইউনিয়নে দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেলেন এস.এম. এনামুল হক। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। গত নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেও জয়লাভ করতে পারেননি। ১২ নং ঝিকরা ইউনিয়নে দ্বিতীয় বারের মতো নৌকার টিকিট পেলেন আব্দুল হামিদ ফৌজদার। তিনি গত নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচত হয়েছিলেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

১৩ নং গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আলমগীর সরকার। তিনি গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জয়লাভ করেন। ১৪ নং হামিরকুৎসা ইউনিয়নে প্রথম বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আনোয়ার হোসেন।

গত নির্বাচনে নিতি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৫ নং যোগীপাড়া ইউনিয়ন দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেলেন এম.এফ. মাজেদুল হক। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৬ নং সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নে আবারও নৌকার মনোনয়ন পেলেন অধ্যক্ষ আজাহারুল হক। তিনি গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ণ পেয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ভবানীগঞ্জ পৌসভার মেয়র আব্দুল মালেক মন্ডল বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল করলে সংগঠনের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে হবে। সবাইকে দলীয় প্রার্থীর হয়ে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়নের গতিকে ধরে রাখতে দলীয় প্রার্থীর বিজয় ঘটাতে হবে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :