বাগমারার ৩৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় ক্ষোভ

বাগমারার ৩৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় ক্ষোভ

রাজশাহী

বাগমারা প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সুনীল কুমার কুণ্ডুসহ ভাতাপ্রাপ্ত ৩৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) পাঠানো হয়নি। যাচাই বাছাইয়ে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি না পাওয়ার কারণে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

বাদপড়া মুক্তিযোদ্ধারা দাবি করেছেন, পক্ষপাতিত্বমূলক যাচাই-বছাইয়ের কারণে তাঁদের নাম বাদ পড়েছেন। তাঁরা নিজেদের নাম অন্তর্ভক্ত করার দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ের কমিটির পক্ষে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই বিষয়ে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বাগমারার ১৭২ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পাঠানো হয়। সে মোতাবেক গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের মনোনীত একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় সংসদ সদস্যের মনোনীত একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা, জেলা প্রশাসকের মনোনীত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদস্য সচিব হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

তবে যথা সময়ে তালিকা না পাঠানোর কারণে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল থেকে তাগাদা দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ মার্চ চূড়ান্তভাবে ১২৫ জনের নাম জামুকায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১৩জনের নাম লাল মুক্তিবার্তায় থাকায় তাঁদের যাচাই-বাছাইয়ের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি না থাকায় ৩৩ জনের নাম বাদ এবং একজনের স্থগিত রাখা হয়েছে। বাদ পড়ার তালিকায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সুনীল কুমার কুণ্ডুও রয়েছেন।

জামুকায় তালিকা পাঠানোর পর তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের নিচে ঝোলানোর পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। বাতিলের তালিকায় নিজেদের নাম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধার। সোমবার দুপুরে বাগমারা প্রেসক্লাবে এসে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাই কমিটি নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও অবৈধ সুবিধা না পাওয়ার জন্য ৩৩ জনের নাম বাদ দিয়ে জামুকায় পাঠানো হয়েছে।

তালিকা থেকে বাদ পড়া উপজেলার উত্তর একডালা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির কিছু সদস্য অযৌক্তিকভাবে তাঁরসহ ৩৩ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভাতা পাওয়া পেয়ে আসছেন। প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র কমিটির কাছে উপস্থাপনের পরেও তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়।

আরও সাত-আটজন মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এতদিন পর তাঁদের নাম বাদ দেওয়া বা বিতর্কিত করা অপমানজনক। তাঁদের সন্তানেরা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পর্যন্ত করছে। তাঁরা এনিয়ে শঙ্কিত বলে মন্তব্য করেছেন।
তালিকা থেকে বাদ পড়া সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সুনীল কুমার কুণ্ডু এই বাছাইকে পক্ষপাতিত্বমূলক বলে মন্তব্য করেন। তাঁর জন্য এটা অপমানজনক বলেও জানান।

যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব শরিফ আহম্মেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি উপস্থাপন না করার জন্য তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। জামুকায় আপিলে সুযোগ রয়েছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :