বাগমারায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমানিত

বাগমারায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমানিত

রাজশাহী

বাগমারা প্রতিনিধি: 

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান দুলালের বিরুদ্ধে ভিজিডি চাল বিতরন ও গর্ভবতী ছাড়াই তালাক প্রাপ্ত এক নারীর নামে মাতৃকালীন ভাতার কার্ড বিতরণে জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। উপজেলাা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পৃথক তদন্তে ওই চেয়ারম্যানের বিরু্েদ্ধ ওইসব অনিয়মের প্রমান পাওয়া যায়।

গত ৪মার্চ এসব অভিযোগের ঘটনায় একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্যা হাসিনা বানু বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি চাল বিতরন ও গর্ভবতী ছাড়াই তালাক প্রাপ্ত এক নারীর নামে মাতৃকালীন ভাতার কার্ড বিতরণে জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভিজিডি চাল বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়।

গত ২৮মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান কর্তৃক ভিজিডি চাল বিতরনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায় মর্মে এবং চলতি মাসের ১ তারিখে অপর তদন্তকারী কর্মকর্তা অবিবাহিত মহিলাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের তালিকায় অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। দাখিকৃত প্রতিবেদনের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের স্থানীয় সরকার রাজশাহীর উপ-পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেলা প্রশাসক বরাবর অনুলিপি প্রেরণ করেন বলে জানা যায়।

জানা গেছে, দ্বীপপুরের ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান দুলাল জালিয়াতির মাধ্যমে তার ইউপি’র নানসোর গ্রামের এছের আলীর কন্যা অবিবাহিতা নারী সুমি আক্তারের নামে মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগির তালিকার নাম অন্তভুক্ত করেন । পরে ওই নারীর নামে ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য জনতা ব্যাংক ভবানীগঞ্জ শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয় যার হিসাব নং ০১০০২২১৪১১১৬৮৮। এই হিসাবের মাধ্যমে অবিবাহিতা সুমি আক্তার ওই হিসাব থেকে ভাতার টাকা উত্তোলনের প্রচেষ্টা চালায়। এছাড়াও দুস্থদের মাঝে ভিজিডি চাল বিতরনের নামে তার বিরুদ্ধে চাল আত্বসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।

এসব অভিযোগ দাখিলের পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান দুলাল নারী ইউপি সদস্য হাসিনা বানুকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী নাজেহাল করেন। এমনকি হাসিনাকে তিনি ইউনিয়নের সকল কর্মকান্ড থেকে বিরত রেখে এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে লাঞ্চিত করে বের করে দেন। এভাবে তিনি হাসিনা বানুকে কোনঠাসা করে একের পর এক অনিয়ম দূনীতি চালাতে থাকেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য হাসিনা বানু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোকলেছুর রহমান একজন দূর্নীতিবাজ ও আত্মসাতকারী চেয়ারম্যান। তিনি দুঃস্থদের দুই মাসের চাল দেওয়ার কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে একমাসের চাল বিতরণ করে এক মাসের চাল তিনি আত্মসাত করেছেন। এভাবে তিনি ইউনিয়নের সকল প্রকল্পে কোন কাজ না করেই পুরোটাকাগুলো আত্মসাত করে চলেছেন। তিনি অবৈধ পুকুর খননকারী ও ইটভাটারও মালিক। তার শত শত এমন অন্যায় কাজের কেহ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী ও লাঞ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে চেয়ারম্যানের এমন জালিয়াতি প্রমাণের খবর ওই ইউনিয়ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনসাধারনের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা লক্ষ করা গেছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান দুলাল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক দাবী করে বলেন, ওই কার্ডটির বিপরীতে কোন ভাতা উত্তোলন করা হয়নি। বিষয়টি আমি জানতে পেয়ে সাথে সাথে কার্ডটি মহিলা বিষয়ক দপ্তরে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার মুক্বামাম মাহমুদা জানান, কার্ডটি কি ভাবে হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে ওই ঘটনায় অনীত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে তার সত্যতা পাওয়ায় একটি প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :