বাগমারায় কৃষিজমিতে পুকুর খনন: মাটি বহনে নষ্ট হচ্ছে পাকা রাস্তা

বাগমারায় কৃষিজমিতে পুকুর খনন: মাটি বহনে নষ্ট হচ্ছে পাকা রাস্তা

রাজশাহী

বাগমারা প্রতিনিধি: 

বাগমারা পরিবেশ আইন অমান্য করে কৃষি জমির (টপসয়েল) ও পুকুর খননের মাটি কেটে সরবরাহ করা হচ্ছে ইটভাটাসহ নানান ভরাট কাজে। এতে প্রভাবশালীরা লাভবান হলেও হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। আবার এই মাটি ট্রাকে পরিবহন করায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সদ্য নির্মিত পাকা রাস্তা ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক পাকা রাস্তা মাটিতে ঢেকে গিয়ে বোঝার উপায় নেই। ভবানীগঞ্জ-আলোকনগর রাস্তার প্রায় ছয় কিলোমিটার পাকা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য ও দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আর জমির শ্রেণি পরিবর্তন না করে পুকুর খনন করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। এতো কিছুর পরেও সচেতন মহলের অভিযোগ, বাগমারায় প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ও পরিবেশের উপর মারাত্মক হুমকি দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, জমি ও ইটভাটার মালিকরা পরিবেশ আইন ও ভুমি নীতিমাল লঙ্ঘন করছেন। মাটি কাটার ফলে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। এর আগে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো ও ইটের সাইজ ছোট করায় ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, পরিবেশ আইন অনুয়ায়ী কৃষি জমির মাটিকাটা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। অন্য দিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রন আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপসয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ন নিষিদ্ধ।

দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। আবার একই কাজ দ্বিতীয় বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। এ জন্য কাজের সাথে জড়িত জমি ও ইটভাটার মালিক উভয়ের সমান শাস্তির বিধান রয়েছে। উপজেলার মাড়িয়া , শিবজাইট, তালতলি, যোগিপাড়া, গাঙ্গোপাড়া, পলাশী, মাধনগর, সাইধাড়া, বাইগাছা মোহনগঞ্জ এলাকায় কৃষি জমির মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে ইটভাটাসহ অন্যান্য স্থানে।

আবার খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক ভর্তি করে বহন করা হচ্ছে। স্থানীয় ভাবে কাঁকড়া নামীয় এসব ট্রাকের অবাধ চলাচলের কারণে উপজেলা সদ্য নির্মিত রাস্তাগুলো ভেঙ্গে চুরে একাকার হয়ে গেছে। এছাড়া ওই সব ট্রাক থেকে মাটি পড়ে ধুলোবালির স্তুপ জমে যাওয়ায় ওই সব রাস্তা দিয়ে যানচলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, এই সমস্যাটি বাগমারায় চরম আকার ধারন করেছে। বিষয়টি উপজেলা সমন্ময় কমিটির সভায় তুলে ধরে একটি রেজুলেশন করা হলেও বাস্তবে কোন কাজ হচ্ছে না। এ বিষয়ে ভাটা মালিক জাফর মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পুরাতন একটি ভাটা কিনেছি।

সেখানে আশে পাশে থেকে মাটি এনে ইট তৈরি করি। অপরদিকে পুকুর খননকারীদের মাটি বিক্রির হিড়িকে রাস্তা গুলোর বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বাগমারা ইটভাটার মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম হেলাল বলেন, ওই সব ট্রাকে মাটি বহনের কোন বৈধতা নেই। তারা ট্রাকে ওভারলোড মাটি তুলে রাস্তা ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে চলেছে। আমরাও চাই এসব অবৈধ যানবাহন বন্ধ হোক। যাতে রাস্তাঘাট নিরাপদ থাকে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :