বাগমারায় ফসলি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খনন

বাগমারায় ফসলি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খনন

রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ ও এলাকার প্রভাবশালীদের যোগসাজসে রাজশাহীর বাগমারায় বিভিন্ন বিলে জোর পূর্বক জমি দখলের মাধ্যমে তিন ফসলি ধানি জমিতে পুকুর খনন চলছেই। তবে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে অভিযান চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিলে ছোট বড় মিলে অন্তত ৪০ টি পুকুর খননের কাজ চলছে। এসব পুকুর খনন কাজ এলাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী। তাদের পাহারা বসিয়ে দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা অবাধে পুকুর খনন করে চলেছে এলাকার এক শ্রেনীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

পুকুর খনন বন্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে যে, জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু অবৈধ পুকুর খননকারীরা উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ফসলি জমিতে চালিয়ে যাচ্ছে হরদম পুকুর খনন। পুকুর খননের কারণে বিল এলাকার প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা কিছুটা লাভবান হলেও নি:স্ব হয়ে পথে বসতে চলেছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা।

অভিযোগকারী উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মাড়িয়া মহল্লা জমির মালিক এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তার জমিসহ প্রতিবেশীদের জমি জোর পূর্বক দখল করে জোর পূর্বক পুকুর খনন করার জন্য শিবজাইট মহল্লার নাজির সরদারের ছেলে জাফর আলী, কর্নীপাড়া মহল্লার লালটু মিঞার ছেলে আমজাদ হোসেন ও নাজিরপুর মহল্লার খলিলুর রহমানের ছেলে সাজদুর রহমান (সন্দেস) জোর পুর্বক দখল নিয়েছে। এতে তিনি সহ ওই এলাকার শতাধিক কৃষক রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ভূমি কমিশনারসহ জেলা প্রশাসকে নিকট ব্যবস্থা গ্রহণে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

আবেদনে অভিযোগকারী আমজাদ হোসেন, আবেদ আলী মাস্টার, আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল মান্নানসহ অনেকে জানান, জোর পূর্বক জমি দখলের বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বার বার জানিয়ে কোন লাভ হয়নি। ফলে কৃষি জমিতে পুকুর খননে বিলের অন্যান্য জমিগুলো হুমকর মুখে পড়ছে এবং আবাদী জমির পরিমান কমছে।

একই ভাবে উপজেলার গোলালকান্দী ইউপির স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবেদ আলী, রামরামা গ্রামের আব্দুল মজিদ, আব্দুর রহমান, ছবির উদ্দীন, শাহজাহান আলী অভিযোগ করেন, তাদেরকে না জানিয়ে রাতারাতি জমিগুলো জবর দখলের মাধ্যমে পুকুর খনন করেছে প্রভাবশালীরা। বলতে গেলে তাদের ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আমাদের প্রান নাশের হুমকি দেয়।

এছাড়া উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের দোবিলা, বাসুপাড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর, সগুনাসহ একাধিক স্থানে পুকুর জোর পূর্বক খনন কাজ অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোন ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ কারীরা দাবি করেছেন।

এদিকে খননকারীরা বিভিন্ন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদেরও ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন। এসবের সাথে বিশেষ ভাবে জড়িত রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসের শহিদুল নামে এক অফিস সহকারী। সকল দপ্তরসহ প্রশাসনকে তিনি ম্যানেজকরার দায়িত্ব নিয়েছেন বলে নাম প্রকাশে কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহমেদ বলেন, অবৈধ পুকুর খনন করা কোন সুযোগ নেই। যশোর বিলে পুকুর খননের কোন অভিযোগ এখনো হাতে পায়নি। এছাড়া দরগা মাড়িয়ার বিষয়টা নিয়ে প্রতিপক্ষকে ডাকা হয়েছে। কাজ বন্ধ করা হয়েছে। নিয়মিত অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে অভিযান চলমান রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :