বাঘায় মাদকের মূল বেপারিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে

বাঘায় মাদকের মূল বেপারিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে

রাজশাহী

লিয়াকত রাজশাহী:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলাজুড়ে গড়ে ওঠা নেশার বাজার কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। এই উপজেলায় প্রায় এক হাজার স্পটে রাত-দিন চলছে মাদক কেনাবেচা। দুর্ধর্ষ আড়াই সহস্রাধিক ফেরারি আসামি এসব মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করছেন। পুলিশের খাতায় বছরের পর বছর ধরে ‘পলাতক’ এই আসামিরা ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও মদের স্পট বানিয়ে প্রকাশ্যে বেচাকেনা করছেন।

একেকজনের বিরুদ্ধে মাদক বেচাকেনা, চোরাচালান, হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসংক্রান্ত ১০-১২টি করে মামলা রয়েছে। মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা পাওয়ায় পুলিশ চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোয় অভিযান চালায় না বলে অভিযোগ আছে। শুরু থেকেই র‌্যাব সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ডাকসাইটে মাদক ব্যবসায়ীরা গাঢাকা দিলেও সোর্স নামধারীদের মাদক বাণিজ্য বহাল তবিয়তেই রয়েছে বলে অভিযোগ।

মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চলে প্রশাসনের, আটক হন ক্রেতা ও ছোট কারবারিরা। তবে বরাবরই মাদকের মূল বেপারিরা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বেপারিদের সঙ্গে মাদকের মাসোয়ারা লেনদেনের গোপন সমঝোতায় থানা, পুলিশ, প্রশাসনের দহরম-মহরম সম্পর্ক; তাই গ্রেফতার ও হয়রানিমুক্ত থাকেন তারা।

এদিকে পুলিশ ও র‌্যাবের সোর্স পরিচয়ধারী ব্যক্তিরাই উপজেলার দাপুটে মাদক ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এরা মাঝেমধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক ব্যবসায়ী দু-চার জনকে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ ধরিয়ে দিয়ে নিজেদের ব্যবসা নিরাপদ রাখেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন টিম ব্যবহার করে সোর্স নামধারীরা প্রতিপক্ষ গ্রুপের মাদক আখড়ায় অভিযান চালান এবং সেখানে জব্দকৃত সিংহভাগ মাদকই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে খুচরা বাণিজ্য করেন।

সর্বত্রই দাপট মাদকের : উপজেলার সর্বত্রই মাদক ব্যবসায়ী আর নেশাখোরদের চলছে দাপুটে ছোটাছুটি। সড়ক-মোড়, অলিগলির মাথায় মাথায় আছে বিক্রেতাদের অবস্থান। মাদক বিক্রেতাদের ভ্রাম্যমাণ টিমও তত্পর আছে উপজেলা জুড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে বাঘা মাজার এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি  হেডলাইনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও,কাজ হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাজার এলাকাবাসী জানান- পাবনা, ঈশ্বরদী, লালপুর, পুঠিয়া সহ এলাকার শত শত মানুষ আসে এই স্থান গুলোতে। তারা আগে টাকা দেই,পাশের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা মাদক পরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কেউ আড়ালে গিয়ে আবার কেউ প্রকাশ্যেই মাদক সেবন করে।

বাঘা মাজার এলাকায় অবস্থিত জাদুঘরের উত্তর দিকে, দিঘার পূর্ব ও উত্তর পার্শ্বে , বাঘা ইসলামি একাডেমির মাঠ সহ পশ্চিম পার্শ্বের রাস্তায়, বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙ্গিনা সহ উত্তরে অবস্থিত ফাঁকা মাঠ এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে মাদকের এই হাট। আর এই মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে, উত্তর  মিলিক  বাঘা গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে স্থানীয় যুবদল নেতা জিয়া(২৯)।

বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে মাদকমুক্ত সোনার বাংলা উপহার দিতে মাদক বিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মসুচীর ঘোষণা দিয়েছেন। তাই পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদক মুক্ত আলোকিত সোনার বাংলার অপেক্ষায় সুশীল সমাজ।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :