বান্দা কীভাবে তার রবকে ভুলে যায়!-রাজশাহী টাইমস

বান্দা কীভাবে তার রবকে ভুলে যায়!-রাজশাহী টাইমস

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

আল্লাহ তাআলাই মানুষের একমাত্র ভরসা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার ভরসা ছাড়া কোনো উপায় নেই। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এই মানুষই তার একমাত্র ভরসা ‘আল্লাহ’কে কীভাবে ভুলে যায়!

মানুষের ভরসা একজনই। যার কোনো অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি হলেন- মহান আল্লাহ। মানুষের সব চাওয়া-পাওয়া তারই কাছে। আল্লাহকে স্মরণ করা ও আল্লাহর কাছে পৌঁছতে পারলেই মানুষর চূড়ান্ত সফলতা। আর আল্লাহকে ভুলে যাওয়া বা ভুলে গেলেই চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়া বা হেরে যাওয়া।

আরবিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘মান লাহুল মাওলা, ফালাহুল কুল।’ অর্থাৎ মালিক বা মাওলা যার; সবকিছুই তার।’ এই মালিক/মাওলা হচ্ছে স্বয়ং আল্লাহ। তিনিই খালেক। আর বান্দা হচ্ছে মাখলুক বা সৃষ্টি। সুতরাং মালিক/মাওলা বা খালেকের হক হচ্ছে বান্দা তার ইবাদত করবে। কারণ বান্দা সব সময় আবেদ। আর আল্লাহ হচ্ছে মাবুদ বা ইবাদত পাওয়ার অধিকারী। অথচ মানুষ এই রবকেই ভুলে যায়!

আল্লাহ হচ্ছেন সামি; তিনি সব কিছু শোনেন। বাসির; তিনি সব কিছু দেখেন। আলিম; তিনি সবকিছু জানেন। খাবির ; তিনি সব কিছুর খবর রাখেন। কাদির; তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। অথচ মানুষ এই রবকেই ভুলে যায়!

মানুষ একজন অন্যজনকে ফাঁকি দিতে পারে। সমগ্র জগতে কেবল একজনকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। যিনি ঘুম এবং তন্দ্রা থেকে মুক্ত। যিনি কখনো ঘুমান না এবং কখনো তন্দ্রাচ্ছন্নও হন না। তিনি হাইয়্যু এবং কাইয়্যুম। তিনি ঘুম-নিদ্রা ও তন্দ্রাহীন মহান রব। অথচ মানুষ এই রবকেই ভুলে যায়!

যদিও মানুষ দুনিয়াতে অহরহ ফাঁকিবাজি করে। অন্যকে ধোঁকা দেয়। সাময়িকভাবে দুনিয়াতে সে এ ফাঁকি কিংবা ধোঁকায় সফল হলেও পরকালে তাকে এ ফাঁকি ও ধোঁকার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ফাঁকি এবং ধোঁকার কারণে সে রবের সামনে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। অথচ মানুষ এ বরকেই বেমালুম ভুলে যায়!

দুনিয়ার সামান্য লোভে মানুষ আল্লাহকে ভুলে যায়। লোভের বশে অন্ধ হয়ে যায়। সত্যকে ধারণ করতে পারে না। মিথ্যাকেই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য মনে করে। জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে। আবার জলন্ত মিথ্যাকে সমর্থন করে ও আপন মনে করে। যে কারণে মানুষের পরকাল বরবাদ তথা ধ্বংস হয়ে যায়। অথচ দুনিয়ার সামান্য লোভের কারণে মানুষ তার রবকে ভুলে যায়!

রবকে ভুলেননি এমন কেউ আছে কি?
‘হ্যাঁ’, তিনি হলে প্রিয় নবি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যিনি জীবনে কোনোদিন মিথ্যা বলেননি। সত্য ও ন্যয়ের সর্বোচ্চ মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার কারণই তিনি অজ্ঞতার যুগেও মানুষের কাছে উপাধি পেয়েছিলেন ‘আল-আমিন বা বিশ্বাসী’। তিনি রবকে ভুলেননি।

যিনি সামান্য হাসি-রসিকতার ছলেও মিথ্যা বলেননি। বরং মানুষকে বলতেন, ‘যারা মানুষ হাসানোর (বিনোদন দেওয়ার) জন্য মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস!’ (তিরমিজি ও আবু দাউদ) তিনি রবকে ভুলেননি।

যিনি জীবনের প্রতিটি কাজ জবাবদিহিতার আলোকে করেছেন। নিজেকে যোগ্য ও সফল দায়িত্বশীল হিসেবে প্রমাণ দিয়েছেন। যিনি ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ জিম্মাদারি পালন করেছেন এবং সফল হয়েছেন; তিনি তার রবকে ভুলেননি।

রবকে না ভুলার উপায়
মানুষ যাতে তার রবকে ভুলে না যায়; সে জন্য তিনি মানুষের জন্য দিয়েছেন এক মহা উপদেশ। যে উপদেশ বাস্তবায়ন করলেই কেবল রবকে স্মরণ রাখা সম্ভব। যে উপদেশ মেনে চললে মানুষ কখনো তার বরবে ভুলবে না। তাহলো- ‘জবাবদিহিতা’। মানুষ যতক্ষণ জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে ততক্ষণ রবকে ভুলে থাকা সম্ভব নয়। সে কারণেই হাদিসে পাকে জবাবদিহিতার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে-
হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকে অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে (আল্লাহর কাছে) জিজ্ঞাসিত হবে।
১. দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল; সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে (আল্লাহর কাছে) জবাবদিহি করবে।
২. পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, অতএব সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।
৩. স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীলা, কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে।
৪. দাস তার প্রভুর সম্পদের দায়িত্বশীল, সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।
(সর্বোপরি) তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারি)

আফসোস, জবাবদিহিতার বিষয়টি থাকা সত্ত্বেও মানুষ কীভাবে তার রবকে ভুলে যায়! কিন্তু রব তার বান্দাকে কখনও ভুলে থাকেন? কিংবা ভুলতে পারেন?

শত অবাধ্যতায়ও বান্দাকে আল্লাহ তাআলা ভুলেন না। বান্দাকে তিনি চরম অবাধ্যতায়ও আলো-বাতাস-রিজিক দিয়ে আশ্রয় দেন। দুনিয়ার মানুষের সামনে মর্যাদার আসনে সমাসীন করেন, ভালোবাসেন।

যখনই মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পেরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তখন আল্লাহ খুশি হয়ে যান। যখন মানুষ আল্লাহকেই একমাত্র আপন ভাবেন তখন আল্লাহ খুশি হয়ে যান। আল্লাহই তো মানুষের একমাত্র আপনজন। একমাত্র তিনিই তো বান্দার আশ্রয়স্থল। আফসোস! তারপরও বান্দা কীভাবে তার প্রভুকে ভুলে যায়!

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :