'বিএনপির একলা চলো নীতির কারণে ঐক্যফ্রন্ট কার্যকারিতা হারিয়েছে'

‘বিএনপির একলা চলো নীতির কারণে ঐক্যফ্রন্ট কার্যকারিতা হারিয়েছে’

জাতীয়

ঐক্যফ্রন্টের কারণে ২০ দলীয় জোটের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিএনপি। সুবিধাবাদীদের বেরিয়ে যাবার পরামর্শ দলটির নেতাদের।

বিএনপির একলা চলো নীতির কারণেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রন্ট নেতারা। অন্যদিকে, ২০ দলের শরিকদের দাবি, বিএনপির পুরোনো এই রাজনৈতিক জোট এখন বায়বীয় ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই কেউ কেউ উদ্যোগী হচ্ছেন নতুন মোর্চা তৈরির। বিএনপি বলছে, যারা শুধুই সুবিধা ভোগের মাধ্যম হিসেবে জোটকে ব্যবহার করেছে তাদের কোনো প্রয়োজন নেই।

দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে কারাগারে যাবার আগে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দলের নির্বাহী কমিটির সভায় বৃহত্তর ঐক্য গড়ার ডাক ছিল বিএনপি চেয়ারপার্সনের। এর ধারাবাহিকতায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

তবে, সারাদেশে মাত্র ৬টি আসনে জয়লাভের পর নির্বাচনের ফল বর্জন করে বিএনপি। এরপরই ঐক্যফ্রন্টের সাথে দূরত্ব বাড়ে দলটির। এখন ফ্রন্টের অস্তিত্ব আছে কিনা সে প্রশ্নও উঠেছে। চলতি বছর বিএনপি আবার যখন নতুন করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান করছে তখনো দূরে দূরে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপির নীতি অনেকটা একলা চলো নীতি। এখন দুই বছর পর তারা মনে করছে একা তো আর চলতে পারছি না। এটা তাদের একটা ছেলেমানুষী। এগুলো কোন পরিপক্ক বা দুরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনীতির লক্ষণ না।

 গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, কিছু ব্যক্তি তাদের দলীয় নেতৃত্বের জন্য কোন্দল সৃষ্টি করে। তারা বেশিদিন টিকতেও পারে না। আমাদের দেশের জনগণ এবং রাজনোইতিক কর্মীরা কিন্তু একটি জাতীয় ঐক্য চায়।

ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে বিএনপির পুরোনো ২০ দলীয় জোটের ভেতরের সমস্যা আরো বেড়ে গিয়েছিল। এখনো সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেনি এই জোট।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে একটা প্রশ্ন উঠেছিল ২০ দলীয় জোট কি নির্বাচনী জোট নাকি আন্দোলনের জোট। বিএনপিকে স্পষ্ট করে বলতে হবে আমরা কি আন্দোলনের জন্য ডাক দিচ্ছি নাকি নির্বাচন নিয়ে কথা উঠলে কি উত্তর দিব। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে এমন অনেক প্রশ্নের উত্তরই তারা দিতে পারে নাই। এসব উত্তর না দিলে কেন দলগুলো আগ্রহ হবে।

বিএনপি বলছে, ঐক্য তারাও চান। তবে, শুধু চেয়ার দখলের জন্য যারা আছেন জোটে তাদের প্রয়োজন নেই।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, বিএনপি জোটে থাকলে স্টেজ, মাইক্রোফোন, একটা প্লাটফর্ম ও জনতা পায়। এজন্যই তারা আমাদের সঙ্গে এসেছে। এখন যদি তারা মনে করে আমাদের জোট থেকে তাদের ব্যাক্তি স্বার্থ উদ্ধার হচ্ছে না, তারা চলে যেতে পারে। যে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, দলের নেতৃত্বে খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার মত নেতা আছে সেখানে অন্য কোন জোট আসলেও ভালো না আসলেও ভালো।

দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সরকার পতন আন্দোলনে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিয়েই এগোতে চান বিএনপির এই নেতা।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :