বিধবা ভাবিকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ!

বিধবা ভাবিকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ!

রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টারঃ

নাটোর সদর উপজেলায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) লালপুর থানায় ধর্ষণে অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন ওই শিক্ষকের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী। অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা (৫০) জেলার লালপুর উপজেলার নান্দোরায়পুর গ্রামের মৃত খলিল শেখ এর ছেলে। তিনি দত্তপাড়া মডেল ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে বিয়ে করার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করছে বুঝতে পেরে প্রেমে আপত্তি জানালে গত ৬ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) তাকে ধর্ষণ করে তার চাচাতো দেবর গোলাম মোস্তফা।

অভিযোগকারী জানান, দত্তপাড়া মডেল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা সম্পর্কে তার চাচাতো দেবর। গত প্রায় ৬ বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যুর পর বর্তমানে তিনি তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে ও ১৬ বছর বয়সী মেয়ে সন্তানকে নিয়ে কোনরকমে সংসার চালাচ্ছেন।

তার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে মাঝে মাঝেই তার চাচাতো দেবর গোলাম মোস্তফা তার বাড়িতে যাতায়াত করতো এবং প্রেম নিবেদন করতো। এ ব্যাপারে বারণ করলে মোস্তফা তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেন। এভাবে ৩/৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তাকে বিয়ে না করায় আপত্তি সত্ত্বেও তাকে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যেতে বাধ্য করে মোস্তফা।

এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা তাকে বিয়ে করবে বলে একই এলাকায় বসবাসকারী মোস্তফার আপন ভাই সাজেদুর রহমানের (৭৫) বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোর করতে থাকে।

বিয়ে না করে এমন সম্পর্কে আপত্তি করলে মোস্তফা সেখানেই বিকাল ৪টার দিকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সেসময় আবারও বিয়ের কথা বললে গোলাম মোস্তফা অভিযোগকারী ভুক্তভোগীকে সাফ জানিয়ে দেয়, ‘তোকে বিয়ে করবোনা, তুই যা পারিস তাই কর’।

ভুক্তভোগী আরো জানান, এরপর বিষয়টি তার আত্মীয় স্বজন ও সন্তানদেরকে জানান তিনি। সকলের সঙ্গে আলোচনা শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক ও অভিযোগকারীর চাচাতো দেবর গোলাম মোস্তফাকে তার মোবাইল নম্বরে ফোন করে বন্ধ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা জানান, মামলা রেকর্ড হয়েছে। অভিযোগকারীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে রিপোর্ট এখনো হাতে এসে পৌঁছেনি। রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :