বিশ্বনবি যে ৩ দোয়া বেশি পড়তেন এবং পড়তে বলতেন

বিশ্বনবি যে ৩ দোয়া বেশি পড়তেন এবং পড়তে বলতেন

ইসলাম

ইসলামীক ডেক্সঃ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা ও কল্যাণ কামনা করতেন। আল্লাহর কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন-
‘দোয়া-ই হলো (মূল) ইবাদত।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, রিয়াদুস সালেহিন)

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দোয়া প্রসঙ্গে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বহুল অর্থবোধক অল্প শব্দের দোয়া পছন্দ করতেন এবং তা ছাড়া অন্য দোয়া পরিহার করতেন।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, রিয়াদুস সালেহিন)

বিশ্বনবির দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন প্রসঙ্গে দোয়া পড়তেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে দোয়া করতে বলতেন। কিন্তু তিনি কয়েকটি দোয়া খুব বেশি পড়তেন। হাদিসের বর্ণনা থেকে তা সুস্পষ্ট। তিনি যেসব দোয়া বেশি পড়তনে, সে সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-
১. হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিকাংশ দোয়া হতো এটি-
اَللهم آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান্নার।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের দুনিয়ার কল্যাণ দাও এবং পরকালেরও কল্যাণ দাও। আর জাহান্নামের আজাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাও।’ (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, রিয়াদুস সালেহিন)

২. হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়া করতেন-
اَللهم إِنِّي أَسْأَلُكَ الهُدَى، وَالتُّقَى، وَالعَفَافَ، وَالغِنَى
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা, ওয়াততুক্বা, ওয়াল আফাফা, ওয়ালগিনা।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত (পরিশুদ্ধ জীবন) কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা পরহেজগারি কামনা করি এবং আপনার কাছে সুস্থতা তথা নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ-সামর্থ্য (আর্থিক স্বচ্ছলতা) কামনা করি। (মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ, রিয়াদুস সালেহিন)

৩. হজরত তারেক ইবনে আশইয়ামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, কেউ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে (প্রথমে) নামাজ শেখাতেন। তারপর তাকে এই দোয়া পড়তে নির্দেশ দিতেন-
اَللهم اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِني، وَعَافِني، وَارْزُقْنِي
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাগ্ফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়া-আফিনি, ওয়ারজুক্বনি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে সঠিক পথ দেখাও, আমাকে নিরাপত্তা দান কর এবং আমাকে জীবিকা দাও।’ (মুসলিম, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহামদ, রিয়াদুস সালেহিন)

উল্লেখ্য এ দোয়াটি অনেক ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদার। কেননা মুমিন মুসলমান এ দোয়াটি নামাজের প্রত্যেক রাকাআতে দুই সেজদার মাঝখানে বসে পড়ে থাকেন।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রতিদিন এ দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়া। আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ কামনা করা। আল্লাহর ভয়, সঠিক পথ, সচ্ছ্বলতা, ক্ষমা প্রার্থনা ও রিজিক কামনা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। জীবন চলার পথে প্রয়োজনীয় কাজে হাদিসে শেখানো দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :