ভালোবাসার উপাখ্যান!

ভালোবাসার উপাখ্যান!

জীবনযাপন

মোঃ তানভীরুল আলম

প্রেম-ভালবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয় মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় । জন্মের পরে একটি শিশুর প্রথম ভালবাসা তার মা পর্যায়ক্রমে তার বাবা এভাবে সে যখন বুঝতে শিখে তখন সে দেখে আসলে প্রেম-ভালবাসা জিনিসটা স্বর্গ থেকে আসে।

যার শুরু সৃষ্টিকর্তা কে ভালবাসার মাধ্যমে এভাবে সৃষ্টিকর্তার সমস্ত সৃষ্টি তে ভালবাসা প্রকাশ করতে শিখে । সৃষ্টিকর্তা তার বান্দাদের সব চেয়ে বেশি ভালবাসেন এজন্য তিনি তার বান্দাদের জন্য এত কিছু দিয়েছেন।সেগুলোর হেফাজত করা, ভালবাসা আমাদের দায়িত্ব । মানুষে প্রেম ভালবাসাটাও এমন । মানুষ তার জীবনের সম্পর্ক অনুযায়ী সবাইকে ভালবাসে। বিশেষ কাউকে ভালবাসে তার জীবনের প্রয়োজনে।

এটাই নিয়ম এবং মানুষ বিশেষ কিছু নিয়মের পরিপন্থী খুব কমই হয় । মানুষ কে এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে নারী পুরুষ একে অপরের প্রতি আকর্ষণ থাকবে যা তাদের ভালবাসা কে সমৃদ্ধ করবে। ভালবাসা না থাকলে মানব সভ্যতা এগুতে পারত না। আজকের সমাজ টিকে আছে এই ভালবাসা তথা পারস্পরিক বন্ধন,নির্ভরযোগ্যতা, বিশ্বস্ততা আছে বলেই।

‘অন্য সত্তা’র সঙ্গে আবার মিলিত হতে প্লেটো ‘সিম্পোজিয়াম’-এ যে তত্ত্ব দিয়েছেন তা জেনে অনেকেই অবাক হবেন৷ তিনি লিখেছেন, মানুষ একসময় দুই মাথা এবং চার হাত, চার পা বিশিষ্ট প্রাণী ছিল৷ তার কোনো আচরণে ঈশ্বর অসন্তুষ্ট হয়ে বজ্রপাত ঘটালে মানুষ দুই ভাগ হয়ে যায়৷ সেই থেকেই নাকি মানুষ নিজের সত্তার অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন৷ সবসময় সে অন্য অংশটির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে৷

প্লেটোর মতে, সেই আকর্ষণটাই হলো ভালোবাসা৷অন্যের কাছ থেকে সুখ পেতে জার্মান দার্শনিক আর্টুর শোপেনহাউয়ার (১৭৮৮-১৮৬০) মনে করেন, মানুষ সহজাতভাবেই আশা করে অন্য কেউ তার অপূর্ণতা দূর করে তাকে সুখি করবে৷ কিন্তু সেই সুখের সন্ধান করতে গিয়ে মানুষ সন্তানের জন্ম দেয় এবং তারপর সব সুখবোধ চলে যায় সন্তানের দিকে৷একাকিত্ব ঘুচাতে
ব্রিটিশ দার্শনিক ব্রার্ট্রান্ড রাসেলের মতে, মানব জাতি পৃথিবীতে এসেছে বংশ বিস্তার করতে৷

বংশ বিস্তার করতে গেলে যৌন মিলন করতে হয়৷ কিন্তু ভালোবাসা ছাড়া যৌনমিলনে তৃপ্তি আসেনা৷ আবার দৈনন্দিন জীবনের নানা ধরনের সমস্যা মানুষের মধ্যে এক ধরনের একাকিত্ববোধের জন্ম দেয়৷ ভালোবাসা সেই একাকিত্ব এবং নিরাপত্তাহীনতার বোধ থেকে মুক্তি দেয়৷গৌতম বুদ্ধ বলে গেছেন, মানুষ জাগতিক সাধ-আহ্লাদ পূরণের জন্যই ভালোবাসে৷

বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বুদ্ধের মতে, সেটা ভুল৷ তার মতে, এক ব্যক্তির সঙ্গে অন্য ব্যক্তির আবেগের সম্পর্ক কেবলই দুর্ভোগ বাড়ায়৷ তাই সবার প্রতি সংসারের মায়া কাটিয়ে ঈশ্বর সাধনায় মোক্ষ লাভে ব্রতী হবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :