মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

জাতীয়

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

চট্টগ্রামের মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী ইয়ামিনকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত শিক্ষক ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা রবিবারের (১৪ মার্চ) মধ্যে জানাতে জেলা প্রশাসক, এসপি, ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকালে, বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের নজরে আনলে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

শুনানিতে আদালত মন্তব্য করেছেন, এ ধরণের ঘটনা মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থার ইমেজ ক্ষুণ্ন করেছে।

আদালত অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ইয়াহিয়া খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও শিশুটির পরিবারকে কোন চাপ দেয়া হয়েছে কি-না তাও জানাতে বলেছেন।

এছাড়া মাদ্রাসাটি যে অধিদপ্তরের অধীনে সে কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়াও তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে আটককৃত শিক্ষক ইয়াহিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

তার আগে, বুধবার (১০ মার্চ) বিকেলে রাঙ্গুনিয়ার সাফরভাটা এলাকা থেকে ওই শিক্ষক ইয়াহিয়াকে আটক করে পুলিশ। হাটহাজারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। শিশুটির মা-বাবা মামলা করতে রাজি না হলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। শিশুটিকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে হাটহাজারী উপজেলার ইউএনও রুহুল আমিনের নেতৃত্ব মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাত রাত ২টার দিকে মাদ্রাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে ওই শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিতে চাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো।

প্রসঙ্গত, হাটহাজারীতে শিক্ষার্থী ইয়ামিনকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। মায়ের কাছে যাওয়ার অপরাধে ওই শিক্ষার্থীকে পেটানো হয়। নির্যাতনের শিকার শিশু ইয়াসিন হাটহাজারীর পৌর এলাকার মারকাযুল কুরআন ইসলামিক একাডেমি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :