মেডিকেল কলেজ খোলার বিষয়ে যা জানা গেল

মেডিকেল কলেজ খোলার বিষয়ে যা জানা গেল

শিক্ষা

রাজশাহী টাইমস ডেক্সঃ

দ্রুতই এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষের ক্লাস চালু হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ বেশকিছু শর্তে ক্লাস চালুর বিষয়ে মত দিয়েছে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের এক চিঠির জবাবে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৪৪তম অনলাইন সভায় এই মতামত দিয়েছে বলে শুক্রবার (১৩ আগস্ট) রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।।জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ ২১ আগস্ট বা কাছাকাছি যে কোনো তারিখ থেকে এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষ বা শেষ বর্ষের ক্লাস চালু করার বিষয়ে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত চেয়ে পত্র দিয়েছিল। এ বিষয়ে কমিটির মত হলো, ইতোমধ্যে এসব ছাত্রছাত্রীর দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে এই দুই বর্ষের ক্লাস শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি।এ ক্ষেত্রে কমিটি কিছু শর্ত দিয়েছে। সেগুলো হলো, ক্লাস শুরুর আগে সব ছাত্রছাত্রীর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ওপর প্রশিক্ষণ করাতে হবে। শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। হাসপাতালের ওয়ার্ডের ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের সঠিকভাবে সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ছাত্রছাত্রীদের সংক্রমণের ওপর নজরদারি রাখতে হবে। এ ছাড়া সংক্রমিত ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসা, আইসোলেশন এবং তাঁদের সংস্পর্শে আসা ছাত্রছাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে হবে।সভায় বলা হয়, ২৩ জুলাই থেকে ১০ আগস্টের ‘লকডাউন’ কঠোরভাবে পালিত না হলেও জনসমাবেশ হওয়ার মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান বন্ধ থাকায় সংক্রমণ হারে উন্নতি পরিলক্ষিত হয়।

তবে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কোনোটাই স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আসেনি। এই অবস্থায় দ্রুত বিধিনিষেধ শিথিল করা বা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি।কমিটি মনে করে বিধিনিষেধ শিথিলতার ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা তাড়াহুড়া করছে। এর ফলে সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাতে অর্থনীতি আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে। ‘লকডাউন’ আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ চলমান রাখতে পারলে এর পুরোপুরি সুফল পাওয়া যেত।

এ অবস্থায় কমিটি সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে।কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ন্যূনতম সভা-সমাবেশ, সামাজিক অনুষ্ঠান, পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার ইত্যাদি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখা, রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ব্যবস্থা না রেখে কেবল বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া, সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচল, যে ক্ষেত্রে সম্ভব বাড়িতে বসে কাজ করা এবং অনলাইনে সভা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখে অফিস খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।এ ছাড়া শতভাগ সঠিকভাবে তিন স্তরবিশিষ্ট মাস্ক পরার নিশ্চয়তা ও অন্যথায় পুনরায় বন্ধ করার বিধান রেখে অফিস, আদালত, ব্যাংক, দোকানপাট, বাজার খোলার পক্ষে কমিটি।

মন্তব্য করুনঃ

আপনার মন্তব্য করুন :